রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের কনভেশন হলে সংবাদ সম্মেলনে ৪ প্রেক্ষাগৃহে 'হাসিনা : অ্যা ডটারস টেল' এর মুক্তির তথ্য জানানো হয়।
বাঙালিনিউজ
জাতীয়ডেস্ক

তিনি বাংলাদেশের সরকারের প্রধানমন্ত্রী। ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’, ‘দেশরত্ন’, ‘জননেত্রী’- এমন কত বিশেষণে অভিহিত করা হয় শেখ হাসিনাকে। এভাবে বলতে গেলে আড়ালে পরে যায় একজন মমতাময়ী মা, আদর্শ স্ত্রী এবং যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তানের নিরাভরণ জীবনযাপনের কথা। প্রশাসন পরিচালনায় ইস্পাতদৃঢ় কঠিন মানুষ তিনি। কিন্তু তার জীবনপাত্র ভরে আছে সারল্য, মমত্ব ও মানবিকতায়। এই নিরাভরণ ব্যক্তিগত শেখ হাসিনাকে এবার দেখা যাবে বড় পর্দায়, ডকুফিল্মে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে হবে ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ ডকুফিল্মের উদ্বোধনী প্রদর্শনী। পরদিন স্টার সিনেপ্লেক্সেসহ ঢাকার মধুমিতা সিনেমা হল ও ব্লকবাস্টার সিনেমাস এবং চট্টগ্রামের সিলভার স্ট্ক্রিনে একযোগে মুক্তি পাবে ৭০ মিনিটের এই ডকুফিল্ম। এটি পরিচালনা করেছেন অ্যাপল বক্স ফিল্মসের পিপলু খান। সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পক্ষে ডকুফিল্মটি প্রযোজনা করেছেন রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও নসরুল হামিদ বিপু।

গতকাল(মঙ্গলবার) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের কনভেশন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রযোজনা সংস্থা সিআরআইর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস, পরিচালক পিপলু খান, ছবিটির পরিবেশক গাউসুল আজম শাওন ও শিবু কুমার শীল।

পরিচালক পিপলু খান বলেন, এ ডকুফিল্মে প্রধানমন্ত্রী বা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উপস্থাপন করা হয়নি। তুলে ধরা হয়েছে একজন সাধারণ শেখ হাসিনাকে- খুব সহজেই একাত্ম হওয়া যায়, যার সঙ্গে অনুভব করা যায় তার মানবিকতা ও মমত্ব।

সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিয়ে এ কাজটি করেছেন জানিয়ে পিপলু খান বলেন, শেখ হাসিনাকে তিনি যেভাবে দেখাতে চান, সেভাবেই করেছেন কাজটি। কোনো নিয়মনীতির ছক অনুসরণ করেননি। যার ফলে কাজটা তার মনের মতো হয়েছে। শেখ হাসিনা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় ইতিহাসের নানা ঘটনা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার পালাবদল, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ছাড়াও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও গবেষণা করতে হয়েছে। কাজটি চ্যালেঞ্জিং বলেই পাঁচ বছর সময় লেগেছে।

পিপলু খান বলেন, ১৪ পৃষ্ঠার একটি কনসেপ্ট পেপার ও কিছু সঙ্গীতকে পুজি করে তিনি কাজটি শুরু করেন। এর পর প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কাজের ফাঁক গলিয়ে সময় বের করে শুটিং করা হয়েছে। ছবিটি সবারই ভালো লাগবে বলে মনে করেন তিনি। প্রত্যেককে ছবিটি দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

সাব্বির বিন শামস বলেন, শেখ হাসিনাকে আমরা দেখতে পাই উন্নয়নের রূপকার হিসেবে। যিনি বঙ্গবন্ধুর অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করে চলছেন। কিন্তু এ চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে এসবের বাইরের একজন শেখ হাসিনা।

গাউসুল আজম শাওন বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত কোনো প্রামাণ্যচিত্র নয়। এটা বঙ্গবন্ধুকন্যার ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র। ‘৭৫-এর আগের ও পরের শেখ হাসিনাকে জানা যাবে এটি থেকে।

ডকুফিল্মটিতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার আবেগঘন কণ্ঠ আর দৃশ্যায়নে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালে নৃশংস হত্যাপরবর্তী বিষাদপূর্ণ সময়ে দুই বোনের নির্বাসিত জীবনসংগ্রামের চিত্র।

আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই ও অ্যাপেলবপ ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘হাসিনা:অ্যা ডটারস টেল’। এর চিত্রগ্রহণ করেছেন সাদিক আহমেদ। সম্পাদনা করেছেন নবনীতা সেন এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র। সূত্র: সমকাল।

Print Friendly, PDF & Email