বাঙালিনিউজ
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: জিনিউজ

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৩৭০ অনুচ্ছেদ তথা বিশেষ মর্যাদা থাকায় এত দিন জম্মু-কাশ্মীরের কী ক্ষতি হয়েছে এবং এখন সেই ধারা বিলুপ্তির পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ায় রাজ্যবাসীর কী লাভ হবে—সে সব প্রতিশ্রুতি আজ ০৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তুলে ধরেছেন। তিনি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, অন্ধকার যুগ থেকে আলোর পথে যাত্রা করল উপত্যকা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণে নয়া জম্মু-কাশ্মীরের স্বপ্ন দেখালেন। বুঝিয়েছেন, এই স্বপ্নে সন্ত্রাসবাদের অবসান হবে, পরিকাঠামো, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যে উন্নয়ন ঘটবে, যুব সম্প্রদায় কাজ পাবে—সর্বোপরি জগৎসভায় উপত্যকা ফের ভূস্বর্গের মুকুট পরবে।

৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়ার পর এই প্রথম ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, ‘‘৩৭০ ধারা কার্যকরী থাকায় জম্মু-কাশ্মীর পেয়েছে শুধু সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, পরিবারবাদ এবং দুর্নীতি। জনকল্যাণে সংসদে যে সব আইন তৈরি হত, তা কার্যকরী হত না উপত্যকায়। কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা পেতেন না। এমনকি, চাকরিতে সংরক্ষণ, তথ্য জানার অধিকারের মতো আইনও সেখানে কার্যকরী ছিল না। সেই সব থেকে মুক্ত হয়ে এক নতুন জম্মু-কাশ্মীর আত্মপ্রকাশ করেছে।’’

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, কেন্দ্রের অধীনে থাকায় এখন জম্মু-কাশ্মীরে পরিকাঠামো, যোগাযোগ, ব্যবসা, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন গতি আসবে। তবে বেশি দিন যে জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থাকবে না, সে বিষয়েও কাশ্মীরবাসীকে আশ্বস্ত করেন মোদী।

লাদাখের জন্য এই সব কল্যাণমূলক কাজ তো হবেই, তার সঙ্গে আলাদা করে সেখানকার ভেষজ সম্পদের কথা উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, ‘‘লাদাখ হয়ে উঠতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার ভেষজ সম্পদ বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। সৌরশক্তি উৎপাদনে নতুন পথ দেখাতে পারে লাদাখ।’’ এখানেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ সব বিষয়ে কেন্দ্রের সর্বোপরি সাহায্যের আশ্বাস দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কাশ্মীরবাসীকে দেশবাসীর সঙ্গে একাত্ম করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনারা কখনওই মনে করবেন না আলাদা। আপনাদের সুখ-দুঃখ আমাদেরও সুখ-দুঃখ।’’ কাশ্মীরবাসীকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে ধুমধাম করে ঈদ পালনের কথাও বলেন মোদী। আর সব শেষে উপত্যকার বাসিন্দাদের প্রতি মোদীর আহ্বান, ‘‘আসুন সবাই মিলে সন্ত্রাসমুক্ত, বিচ্ছিন্নতাবাদমুক্ত এমন এক শান্তির উদ্যান গড়ে তুলি কাশ্মীরকে, যাতে সারা বিশ্বে নজির তৈরি হবে।’’ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

Print Friendly, PDF & Email