বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
বগুড়া প্রতিনিধি

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোববার সকালে, সৎ ছেলের লাঠির আঘাতে এক সৎ বাবার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিজরুল গ্রামে। নিহত ব্যক্তির নাম আরব আলী (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে।

জানা গেছে, গতকাল ০৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে সৎ ছেলে ময়নুল ইসলাম মধুর (১৫) লাঠির আঘাতে আরব আলী নামে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। আজ সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরব আলী দেড় বছর আগে একই গ্রামের মর্জিনা বেগম নামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে বিয়ে করেন। আরব আলীর সঙ্গে বিয়ের আগে মর্জিনার আরও দুইজনের সঙ্গে বিয়ে ও ছাড়াছাড়ি হয়েছে। গত ১৫ দিন আগে মর্জিনা তার তৃতীয় স্বামী আরব আলীকে না জানিয়ে পাশের শেরপুর উপজেলায় পালিয়ে যান। সেখান থেকে গতকাল শনিবার মর্জিনা বিজরুল গ্রামে তার মায়ের বাড়ি বেড়াতে আসেন।

খবর পেয়ে আরব আলী স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে মর্জিনার মায়ের বাড়ি যান। তখন মর্জিনা জানান, তিনি আরব আলীকে ‘স্বামী তালাক’ করে শেরপুরে বিয়ে করেছেন। আরব আলী সে সময় মর্জিনার কাছে স্বামী তালাক ও চতুর্থ বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় মর্জিনার আগের পক্ষের ছেলে ময়নুল তার মায়ের পক্ষ নেয় এবং এক পর্যায়ে সে উত্তেজিত হয়ে সৎ বাবা আরব আলীর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে।

সৎ ছেলের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত আরব আলী। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাবর আলীকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ১০টার দিকে আরব আলী মারা যান।

কাহালু-নন্দীগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই মর্জিনা বেগম, তার মা জরিনা বেগম ও ছেলে ময়নুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। পুলিশ নিহত আরব আলীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email