বাঙালিনিউজ
প্রতীকী ছবি।

বাঙালিনিউজ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

গতকাল ০২ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার রাতে, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওই নারীর নাম দীপালি দেব (৩৩)। শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের জেটি রোডে বাবার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে। তার পরিবারের দাবি, স্বামী বিবেকানন্দ অর্জুনের মানসিক নির্যাতনে দীপালি আত্মহত্যা করেছেন। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী।

নিহত দীপালির ভাই বাদল দেব তার অভিযোগে বলেন, ‘আমার বোনকে তার স্বামী বিবেকানন্দ অর্জুন প্রায় তিন বছর যাবৎ বাবার বাড়িতে ফেলে রেখেছিল। আমার বোনের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। সেই সন্তানের সঙ্গেও ওর স্বামী দেখা করতে দিত না। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় আমার বোনকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত আমার বোনজামাই। গতকাল বোনের সঙ্গে ওর সন্তানের দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু আমার বোনজামাই ওর সন্তানের সঙ্গে ওকে দেখা করতে দেয়নি। সব মিলিয়ে আমার বোন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।’

মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে নিহত দীপালি দেবের স্বামী বিবেকানন্দ অর্জুন বলেন, ‘আমার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ। আমার পরিবারে তার দেখাশোনা করার মতো লোক নেই। তাই দীপালিকে আমি আমার শ্বশুরবাড়িতে রেখেছিলাম। আর সন্তানকে আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ঘটনাটিকে আত্নহত্যা বলে ধারণা করছি। লাশের ময়নাতদন্তের পর দীপালি দেবের মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে৷

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস ছালেক আজ ০৩ আগস্ট শনিবার মিডিয়াকে বলেন, দীপালির লাশ ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা যাবে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email