কুমিল্লা প্রতিনিধি
বাঙালিনিউজ

লিজা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ দাফনের প্রস্তুতির সময় পুলিশ আসার কথা শুনে স্বামী রাজিব (৩৮) ও তার স্বজনরা পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে আজ ২৭ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার বিকালে লিজা আক্তারের (২৫) মরদেহ তার পিতার বাড়ি বরুড়ার জীবনপুর গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

এ ঘটনার ব্যাপারে লিজা আক্তারের বোনের স্বামী শাহরিয়ার আহমেদ মাসুম বলেন, বরুড়া উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামের রশিদ মাস্টারের ছেলে রাজিবের (৩৮) সঙ্গে ৯ বছর আগে একই উপজেলার জীবনপুর গ্রামের প্রবাসী দিদার আলীর ছোট মেয়ে লিজা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

লিজার বোনের স্বামী শাহরিয়ার আহমেদ মাসুম অভিযোগ করেন, লিজার স্বামী ঢাকায় ব্যবসার জন্য শ্বশুরের কাছ থেকে ২৩ লাখ টাকা নিয়েছে। ওই টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে এবং পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় লিজার উপর মানসিক ও শারীরিক নিযার্তন চালাতো রাজিব।

তিনি বলেন, ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট কচুক্ষেত এলাকায় স্বামী রাজিবের ভাড়া বাসায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজিবের পরকীয়ার বিষয়ে স্ত্রী লিজার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পযার্য়ে রাজিব তার মাথা ধরে দেওয়ালে আঘাত করলে লিজা মারা যায়। এই ঘটনা আড়াল করে লিজার ভাসুর নাসির উদ্দিন তার বাবার বাড়িতে ফোন করে জানায়, লিজা স্ট্রোকে মারা গেছে। আমরা রাতেই লাশ দাফন করবো।

এদিকে সংবাদটি শুনে লিজার বড় বোন লিপি আক্তারের সন্দেহ হয়। তিনি বরুড়া থানা পুলিশকে খবর দেন। বরুড়ার জোড় পুকুরিয়া গ্রামে শুক্রবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই লিজার স্বামী রাজিব, ভাসুর নাসিরসহ অন্যরা পালিয়ে যান। এসময় পুলিশ লিজার মরদেহ উদ্ধার করে। লিজার হাতে, ঘাড়ে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বরুড়া থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ এ বিষয়ে বলেন, নিহতের সন্তান তাসফিয়ার বর্ণনানুয়ায়ী তার মাকে তার বাবা মারধর করেছে, পরে তিনি মারা যান। বরুড়ায় স্বামীর বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ঘটনাস্থল ঢাকার কাফরুল থানা হওয়ায় সেখানে মামলা করতে হবে বলেও তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email