বাঙালিনিউজ
ছবি: ইউনূস সেন্টার

বাঙালিনিউজ
জাতীয়ডেস্ক

অনেকে মনে করে টাকাই সুখ। কিন্তু সুখ মানে ব্যাংক ব্যালেন্স নয়। অর্থ দিয়ে আমরা যে সুখ অর্জনের চেষ্টা করি, সেটি মূলত একটি ভুল ধারণা। আমাদের উচিত মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া, তাদের পাশে থাকা।

আজ ২৮ জুন ২০১৯ শুক্রবার সকালে, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ‘সেন্টার ওয়ার্ল্ড’ মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী ‘নবম সোশ্যাল বিজনেস ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মেকিং মানি ইজ হ্যাপিনেস, মেকিং আদার পিউপিল হ্যাপি ইজ সুপার হ্যাপিনেস (টাকা রোজগার করা সুখের. কিন্তু অন্য মানুষদের সুখী করা পরম সুখের) শিরোনামে এই সম্মেলনের মূল বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রফেসর ইউনূস প্রচলিত অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা বদলে ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুখী হতে এখন যেভাবে মানুষ টাকার পেছনে ছুটছে, সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। এখন যে লোভনির্ভর সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে উঠেছে তা ভেঙে ফেলতে হবে।

মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ এই পৃথিবীর বেশিরভাগ সমস্যা সৃষ্টি করছে, এমন মন্তব্য করে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মুনাফাভিত্তিক অর্থনীতি সমাজ পরিবর্তনে কোনো ভূমিকা রাখছে না। এটি শুধু মানুষকে টাকা বানানোর মেশিনে পরিণত করছে। এটি সামাজিক বৈচিত্রকে ভেঙে-চুরে শেষ করে দিচ্ছে।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, মানুষ এমন একটি বিপর্যস্ত পৃথিবীতে বাস করছে, যেখানে মানুষের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। সম্পদের কেন্দ্রীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেদূষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো হুমকি থেকে আমাদের পৃথিবী, আমাদের সমাজকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ। বক্তব্য রাখেন, ডানোন-এর সিইও ইমানুয়েল ফেবার, ইউএনএসকাপ-এর এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি আমিদা সালসিয়া আলিসিয়া বানা, থাইল্যান্ডের সাউদার্ন বর্ডার প্রভিন্সের মহাসচিব রিয়াল এডমিরাল সামকিয়াত পনপ্রায়োন।

এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনি গুতারেস, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ফাও)’র মহাসচিব জোসে গ্রাজিওনো সিলভা, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টমাস বাখ এবং শান্তিতে নোবেল জয়ী মালালা ইউসুফজাই ভিডিও ম্যাসেজে সোশ্যাল বিজনেস ডে ও প্রফেসর ইউনূসের জন্মদিন উপলক্ষ্যে অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন।

এ বারের ‘নবম সোশ্যাল বিজনেস ডে’ উপলক্ষে পৃথিবীর ৫৮টি দেশ থেকে ১,৪৫০ জন প্রতিনিধি সামাজিক ব্যবসা দিবসে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

ইউনূস সেন্টার ঢাকা, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং থাইল্যান্ডের কাসেটসার্ট ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সম্মেলনের বিভিন্ন প্যানেলে সামাজিক ব্যবসা ইকো-সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সেগুলো হচ্ছে: খাদ্য ও কৃষি, বনভূমি ধ্বংস, গ্রীন এনার্জি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিল্পকলা।

সামাজিক ব্যবসার সাথে যুক্ত কর্মী, সমর্থক, অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, লক্ষ্য নির্ধারণ ও আগামী বছরগুলোতে করণীয় বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি নিয়মিত বাৎসরিক প্লাটফর্ম এই সামাজিক ব্যবসা দিবস।

এই সামাজিক ব্যবসা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক ব্যবসা কর্মী, কর্পোরেট ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, নেতৃস্থানীয় এনজিও, ছাত্র, উদ্ভাবক এবং সামাজিক ব্যবসার নীতি ও আদর্শে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছেন এমন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

এছাড়াও অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক ব্যবসা দিবসের বিভিন্ন প্লেনারি সেশন ও কর্মশালায় যোগদানের মাধ্যমে তাদের সামাজিক ব্যবসা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সুযোগ পেয়ে থাকেন এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে সামাজিক ব্যবসা কর্মকাণ্ডের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করে থাকেন। সম্মেলনের প্রতিনিধিরা তাদের পরবর্তী সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের জন্য নতুন নতুন আইডিয়া ও অংশীদারের সন্ধান করে থাকেন।

ব্যাংককে এবারই প্রথম এই দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অষ্টম সামাজিক ব্যবসা দিবসের অনুষ্ঠান হয়েছিল ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে। এর আগের সবগুলো সামাজিক ব্যবসা দিবসের অনুষ্ঠান হয়েছিল ঢাকায়।

আগামীকাল ২৯ জুন ২০১৯ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে সামাজিক ব্যবসা অ্যাকাডেমিয়া নেটওয়ার্কের একটি প্রাক-সম্মেলন। এ বছরের নভেম্বরে জার্মানিতে অনুষ্ঠেয় সামাজিক ব্যবসা অ্যাকাডেমিয়া সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক সভা হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রাক-সম্মেলনটি। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ইত্তেফাক।

Print Friendly, PDF & Email