বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাদেক হোসেন খোকাসহ ৪ জনের প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের কার পার্কিং ইজারা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের () দায়ের করা মামলায় আজ ২৮ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার সকাল ১১টার পর ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার অপর তিন আসামি হলেন- ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন নকী, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ ও গুডলার্ক কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থাপক এইচ এম তারেক আতিক।

পলাতক। অপর তিন আসামি জামিনে থাকলেও আজ তাঁরা আদালতে হাজির হননি। এদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রেজাউল করিম।

রায়ে বলা হয়েছে, পলাতক সাদেক হোসেন খোকাকে ৪০৯ এবং ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর তিন আসামিকে ১০ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা ছিল। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিসিসির বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্সের বেজমেন্টের কার পার্কিং ইজারার জন্য ২০০৩ সালের দরপত্র আহ্বান করেন। অংশগ্রহণ করা ৪টি দরপত্রের মধ্যে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বার্ষিক এক লাখ ১০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে সাদেক হোসেন খোকা অপরাপর আসামির সঙ্গে যোগসাজশে ইজারার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর ফলে তারা ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩০ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৯ টাকা ঢাকা সিটি করপোরেশনের ক্ষতি করেছেন।

এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলাটিতে ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় ১১ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় সাদেক হোসেন খোকাকে পৃথক ধারায় ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালত। একই সঙ্গে ১১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও সাত মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ে সাদেক হোসেনের ১০ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা করার নির্দেশ দেন আদালত।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল দুদক সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে রমনা থানায় এই মামলা করে। সাদেক হোসেন খোকা ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। এখনও তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন বলে। উল্লেখ্য, সাদেক হোসেন খোকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রথমসারির নেতা।

Print Friendly, PDF & Email