বাঙালিনিউজ
আজ ১০ জুন ২০১৯ সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরায় আসম রবের বাসভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারবিরোধী বড় জোট গড়তে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ ১০ জুন ২০১৯ সোমবার সন্ধ্যায় জোটের অন্যতম নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় এক বৈঠকে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন জোট নেতারা। তারা বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হবে, স্বাধীনতার পক্ষের সরকারবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে।

দেড় মাস পর, রাজধানী ঢাকার উত্তরায় নিজ বাসভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এই বৈঠক শেষে রব সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য পরবর্তী সভা জোটের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হবে। এ আন্দোলনের রূপ হবে বৃহত্তর, ঐক্যবদ্ধ। আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক করতে হবে ঐক্যফ্রন্টকে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে সরকারবিরোধী যত রাজনৈতিক দল আছে, সবাইকে নিয়ে এই বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হবে। আমরা এই স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখব।

জেএসডি সভাপতি জানান, জোটের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকায় তিনি আজকের সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাই জোটের আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে পরবর্তী সময়ে তাদের যে বৈঠক হবে, সেখানে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

জেএসডির সভাপতি বলেন, যেসব প্রতিশ্রুতিতে তারা নির্বাচনে গিয়েছিলেন, তা এখনো আদায় হয়নি। তাই আন্দোলন এবং ঐক্য অব্যাহত থাকবে। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আসম রব।

উল্লেখ্য, গত ৯ মে সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী জোটের অসংগতির কথা জানিয়েছিলেন। ৮ জুনের মধ্যে অসংগতি দূর না হলে তিনি জোট ছাড়বেন বলেও জানিয়েছিলেন। কাদের সিদ্দিকী জোটের সমস্যা নিয়ে ড. কামাল হোসেন এবং ঐক্যফ্রন্টকেও চিঠি দিয়েছিলেন।

আজকের বৈঠকে কাদের সিদ্দীকীর চিঠি প্রসঙ্গে রব বলেন, কামাল হোসেন সুস্থ হয়ে বৈঠক না ডাকা পর্যন্ত কাদের সিদ্দিকীর প্রস্তাব স্থগিত থাকবে। কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ৮ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। ৮ তারিখ পর্যন্ত কোনো উত্তর পাই নাই। আজকে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নাই। যেহেতু কামাল হোসেন অসুস্থ, তাই সভাটা মুলতবি রাখা হয়েছে। দলের সভায় আলোচনা করে আরও অপেক্ষা করব। কিছু সময় ধৈর্য ধরতে হবে। যদি সুরাহা হয়, আমরা জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করব। আমরাও চাই জাতীয় ঐক্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের সেই ভিত শক্তিশালী হয় নাই।

দেশে মানুষের নিরাপত্তা নেই জানিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে জাতীয় বৃহত্তর ঐক্য দরকার। এখনকার ঐক্যফ্রন্টের চেয়ে সুদৃঢ় ঐক্য দরকার। সেটা করতে চাই। তবে এখন পর্যন্ত জাতির প্রত্যাশা ঐক্যফ্রন্ট পূরণ করতে পারেনি বলে তিনি জানান।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক শীর্ষ নেতা মিডিয়াকে জানান, জোট টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে সবাই আগ্রহী। তবে সংবাদ সম্মেলন আর আলোচনা সভা করে ঐক্যফ্রন্ট টিকে থাকবে না। মাঠে নামতে হবে, এ বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়।

জোটের এই নেতা জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বৈঠকে বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক সময় কথা বলা হয়। তিনি অন্যদের কাছে হতাশা না ছড়ানোর আবেদন জানান। জোটের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনার অনুরোধ করেন মির্জা ফখরুল।

বিকাল সোয়া ৪টায় শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যায় ৬টায়। রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব। উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান তালুকদার, ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের ড. জাহেদ-উর রহমান, মমিনুল ইসলাম, বিকল্পধারার নুরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন ও গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সবশেষ বৈঠক হয় গত ২৪ এপ্রিল।

Print Friendly, PDF & Email