বাঙালিনিউজ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আবাসিক হলের রুমে এক কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন এক ছাত্রী। তবে প্রসবের পরই শিশুটিকে ট্রাঙ্কের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখায় শিশুটি মারা যায়। এসময়ে ছাত্রীও গুরুতর অসুস্থ বলে জানা যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ১৬ মার্চ ২০১৯ শনিবার দুপুরে কন্যা সন্তানটি জন্মগ্রহণ করে। প্রসবের পর ভূমিষ্ঠ সে সন্তানকে বাক্সে তালাবন্দি করে হাসপাতালে যান সেই ছাত্রি। এ সময়ে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে বাক্স থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় বাচ্চাটিকে।

আবাসিক হলের ছাত্রী ও প্রশাসন জানান, ওই হলের ৪২৬নং কক্ষে সন্তানটি প্রসব করেন। তিনি ওই রুমেরই আবাসিক ছাত্রী। এ ঘটনার পরে বাচ্চাকে ট্রাঙ্কে তালাবদ্ধ করে হল প্রশাসনকে প্রসব বেদনার কথা জানিয়ে মেডিকেলে যান তিনি। এ সময় নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পেয়ে ওই রুমের একটি ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে মেডিকেলে নেয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর জানান, রাত ৯টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটি মারা গেছে। আর মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু মেয়েটি বিবাহিত কিনা এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর নিশ্চিত করতে পারেননি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বান্ধবীদের সূত্রে জানা যায়, অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ওই ছাত্রী গোপন রেখেছিলেন।

এ ঘটনায় হল সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী নবজাতক প্রসব করে কাউকে না জানিয়ে ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখে। তার রুমমেট রুমে এলে তাকে শুধু প্রসব বেদনার কথা জানায়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে জানায়। চিকিৎসা কেন্দ্রের নার্স এসে তাকে হাসপাতলে নেয়ার পরামর্শ দিলে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নেয়া হয়। পরে ওই কক্ষ থেকে বাচ্চাটির কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে হল প্রশাসন। এ সময় বাচ্চার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শরীর নীল বর্ণ ধারণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে বাচ্চাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই হাসপাতালে (মায়ের কাছে) নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ (সন্ধ্যায়) জানান, বাচ্চাটিকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীর সম্পূর্ণ নীল রং ধারণ করেছিল। পরে তাকে অক্সিজেন দিয়ে স্বাভাবিক করে মায়ের কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, তথ্য গোপন করে মেয়েটি অপরাধ করেছে। এতে অনেক বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারত। এই ঘটনায় তদন্তের জন্য হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক লাবিবা খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে যানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email