বাঙালিনিউজ
জাতীয়ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ জারি করা হয়েছে। উল্লেখিত নীতিমালার অনুসরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী ৪ জুলাই ২০১৮ বুধবার জাতীয় সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে অনলাইন এপ্লিকেশন গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা এবং বিধিমতে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সারাদেশে ১ হাজার ৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নতুন জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুসারে শতভাগ বেতন পাচ্ছেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারে দ্বিতীয় মেয়াদের ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়-কলেজ ও মাদ্রাসার সর্বমোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৬ জন শিক্ষক কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

শিগগিরই পোশাক শ্রমিকদের বেতন পুনর্নির্ধারণ
বাঙালিনিউজ

সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খানের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বেতনও শিগগিরই পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধি করে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মজুরি ও ভাতা নির্ধারণের জন্য ‘জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫’ গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতনও শিগগিরই পুনর্নির্ধারণ করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রফতানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এটি দেশের অর্থনীতিতে আয়ের অন্যতম প্রধান খাত। তিনি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রফতানির ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২০১৫-১৮ মেয়াদে গৃহীত রফতানি-আমদানি নীতির ধারাবাহিকতায় ২০১৮-২১ মেয়াদের জন্য অনুরূপ নীতি প্রণয়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তৈরি পোশাক খাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পদক্ষেপসমূহ হচ্ছে- তৈরি পোশাক রফতানির বিদ্যমান বাজার সুসংহত ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ব্রাজিল, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি এবং রাশিয়াসহ অপরাপর উন্নত দেশে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে, ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প স্থাপনে আর্থিক ও বিভিন্ন ধরনের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে চাকরি নেই কিন্তু ভবিষ্যতে এ খাতে কাজ করতে যাচ্ছে এমন যুব শ্রেণি এবং এ খাতের দক্ষ মিড লেভেল ম্যানেজার সংকট দূর করতে প্রশিক্ষণ নীতিমালা ও মডিউল প্রণয়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস।

Print Friendly, PDF & Email