বাঙালিনিউজ
শাহনাজ আক্তার তাঁর বাইকে। জীবিকা নির্বাহের বাহন হিসেবে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং বেছে নিয়েছেন শাহনাজ আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

গতকাল ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার রাতে, পুলিশ নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে নারী বাইকচালক শাহনাজ আক্তারের চুরি যাওয়া মোটরবাইকটি উদ্ধার করেছে। একইসঙ্গে বাইক চোরকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, চুরি হওয়া স্কুটি মোটরবাইকটি ও আটক যুবককে ঢাকা এনে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ার করে জীবিকা নির্বাহ করা এই নারীর বাইকটি গতকাল ১৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে রাজধানী স্কুলের সামনে থেকে প্রতারণার মাধ্যমে চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায় এক যুবক।

এই ঘটনায় শাহনাজ আক্তার শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মোটরবাইক উদ্ধারে চেষ্টা চালায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বাইকটিসহ ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বাঙালিনিউজ

পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আবু তৈয়ব এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শাহনাজের চুরি হয়ে যাওয়া বাইকটি নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করেছে জোবাইদুল (২৬) নামের এক যুবককে। আটক করা যুবক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ওই বাইকটি তিনিই চুরি করেছেন। যুবকের দাবি, তিনি একজন শিক্ষার্থী।

পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আবু তৈয়ব বলেন, বাইকটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধরা হয়েছে ওই আসামীকে। পুলিশ শাহনাজের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাইকটি তুলে দেবে। শাহনাজও বলেছেন, পুলিশ তাঁকে ফোন দিয়ে বাইক পাওয়ার খবর জানিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জোবাইদুল নামের ওই যুবক শাহনাজের অল্প দিনের পরিচিত। শাহনাজকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খামারবাড়ি এলাকায় তাঁর সঙ্গে দেখা করেন যুবকটি। সাক্ষাতের পর একপর্যায়ে যুবক শাহনাজের মোটরবাইকে উঠে কথা বলছিলেন। আর শাহনাজ মোটরবাইকের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কথার এক ফাঁকে প্রতারণা করে শাহনাজকে রেখে আকস্মিকভাবে মোটরবাইকটি নিয়ে সটকে পড়েন ওই যুবক।

বাঙালিনিউজ
স্কুটি হারানোর পর ক্রন্দনরত শাহনাজ আক্তার

গত এক মাস ধরে মোবাইল স্মার্টফোনের অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি-সেবার নেটওয়ার্ক উবারের মাধ্যমে মোটরবাইক চালাচ্ছেন শাহনাজ আক্তার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে তিনি অনেকটাই পরিচিত হয়ে উঠেছেন। একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মানুষের হাসি দেখলে তো আমার সংসার চলবে না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর শাহনাজ আক্তারের সংগ্রামী জীবনের গল্প অনেকে জানতে পারেন।

বাইকটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর শাহনাজ আক্তার মিডিয়াকে জানান, ‘ঋণ করে স্কুটিটি কিনেছিলাম। এই স্কুটিটি দিয়েই চলতো আমার সংসার। গতকাল সেই সম্বলটাও চুরি হওয়ার পর বেশ ভেঙ্গে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম আর হয়তো এই জীবনযুদ্ধে নামতে পারবো না। অবশেষে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাইকটি উদ্ধার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

জানা গেছে, শাহনাজ আক্তার নীল রংয়ের একটি মাহিন্দ্র স্কুটি চালাতেন। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-হ ৫৫-২৯৪৭। সংগ্রামী নারী শাহনাজ আক্তার সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। রাজধানীর মিরপুরে তাঁর জন্ম। বাবা নেই, মা আর বোনেরা আছেন। তার সঙ্গে রয়েছে নিজের দুই মেয়েও। বড় মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে, আর ছোট মেয়ে পড়ে প্রথম শ্রেণিতে। স্বামী আছে, তবে তিনি আলাদা থাকেন।

Print Friendly, PDF & Email