বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
লাইফস্টাইলডেস্ক

শরীরে মেদ বেশি? চলাফেরা এবং কাজে অসুবিধা হচ্ছে? চিন্তা নেই। শরীরের মেদ ঝরাতে তেমন কষ্ট করতে হবে না। কিছু খাবার খাবেন, যে খাবারগুলো আপনি হাত বাড়ালেই পাবেন। শুধু আপনার ইচ্ছাটুকু দরকার। আসুন জেনে নেই কী কী খেলে আপনার কমবে মেদ।

শশা: ডিটক্সিফিকেশনের গুণ রয়েছে শশায়। শশায় ফাইবার আর জলের আধিক্য থাকায় শশা খেলে বারে বারে খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। দুপুরে খাবারে রোজ শশা রেখে দেখতে পারেন।

ফুলকপি ও ব্রকোলি: প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আর বিভিন্ন মিনারেল ও ভিটামিনের পাশাপাশি ব্রকোলিতে রয়েছে ফটোকেমিক্যাল যা চর্বি জমতে দেয় না শরীরে। একই উপকার রয়েছে ফুলকপিতেও।

কুমড়া: বেশি পরিমাণ ফাইবার আর কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার হল কুমড়া। ভুঁড়ি কমাতে প্রতিদিন খাবারের তালিকায় কুমড়া রাখলে সহজেই উপকার পাবেন।

গাজর: কুমড়ার মতোই গাজরও লো ক্যালোরি খাবার। চাইলে প্রতিদিন গাজরের জুস খেতে পারেন।

মাশরুম: আমিষ ভোজী হন বা নিরামিশাষী, মাশরুম সকলেরই পছন্দ। মাশরুম রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও মাশরুম প্রোটিনে ঠাসা, যা শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি জমা আটকায়।

মরিচ: কাঁচা মরিচে আছে ক্যাপসেইসিন নামের একধরনের উপাদান, যা শরীরকে সুঠাম করতে কার্যকর। রান্না করা বা কাঁচা যেকোনো ধরনের মরিচের ঝাল মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয় এবং নিজে থেকেই ক্যালরি বার্ন করে। তাই একটু বেশি ঝালযুক্ত খাবার কমাতে পারে ওজন।

গ্রিন টি: এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ এমন কিছু পুষ্টির উপাদান, যা চর্বি কমাতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ক্যানসারেরও ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত গ্রিন টি পানে কমতে শুরু করবে ওজন।

সাগু দানা: যদি আপনি একেবারে নিরামিষভোজী হন তাহলে ওমেগা থ্রি নিয়ে একদমই ভাবতে হবে না। সাগু দানায় আছে ওমেগা থ্রি, যা ওজন কমাতে সহায়তা করবে। এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, লোহা ও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার।

আদা-চা: আদা হজমে সাহায্য করে। সারা দিনের দৌড়ঝাঁপে আদা-চা যেমন প্রশান্তি দেবে, তেমন এটি দুশ্চিন্তাজনিত ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।আদা ও লেবুর পানীয় ওজন কমাতে এবং পেটের মেদ ঝরাতে দ্রুত কাজ করে। আদা হজম ভালো করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া আদার পানি কঠিন চর্বিকে কমাতে সাহায্য করে। এই পানীয় নিয়মিত খেলে দ্রুত মেদ ঝরে।

মাছের তেল: মাছের তেলে আছে ওমেগা থ্রি, যা ওজন কমাতে সহায়তা করবে। মাছের তেল হাড় গঠনে সহায়তা করে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রয়োজনীয় কোলস্টেরল বৃদ্ধি করে। মাছের তেল কোমর ও পেটের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

লেবু-পানি: চিনি ছাড়া তৈরি লেবু-পানি শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে। লেবু-পানি লিভার পরিষ্কার রাখে, সে সঙ্গে বাড়িয়ে দেয় চর্বি ভাঙার কাজও।লেবু শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে উপকারী। আর মধু ওজন কমাতে শক্তিশালী উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং পানীয়টি সুবাসিত করে। ওজন কমাতে আদা-লেবুর পানীয় তৈরির উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ডেমিক।

দারুচিনি: দারুচিনি মেটাবলিজম বাড়িয়ে শরীরের মেদ কমাতে সহায়তা করে। এ ছাড়া দারুচিনি শরীরে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে এটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

রসুন: মেদ কমাতে রসুনের জুরি নাই। রসুনে থাকা ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ফাইবার, ম্যাংগানিজ এবং ক্যালসিয়াম ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। রসুনে থাকা এক ধরনের কেমিক্যালজাতীয় উপাদান পেটের মেদ কমাতে সক্ষম।

নিয়মিত রসুন খেতে পারলে পেটের মেদ কমবে রসুন খেলে আরও যেসব উপকার পাবেন রসুন অনেকক্ষণ পর্যন্ত এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা লোপ পায় রসুন খেলে। শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরায় রসুন। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথে প্রকাশিত এক গবেষণা মতে, রসুন রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

ভিনেগার: অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খুব সহজেই ওজন কমানোর কাজে সাহায্য করে কোনরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়ায়। এটি ওজন কমানোর পর ছেড়ে দিলে, ওজন দ্রুত বাড়ায় না। নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি আপেল এর রস এবং ভিনেগার এর তৈরি। সাধারণত আপেল ওজন কমাতে সাহায্য করে। সেই সাথে ভিনেগার ও একই কাজে মাহির। তাই এদের মিশ্রণটা যে ওজন কমানোর কাজে লাগবে তা বলাই বাহুল্য। আজকাল অনেক সুপরিচিত হলেও অনেকেই জানেন না যে, কীভাবে এটি পান করতে হবে।

লিন মিট: মাংস সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিলেই তৈরি হয় লিন মিট। যাঁরা মাংস খেতে ভালোবাসেন, তাঁরা তেল-চর্বিযুক্ত মাংস না খেয়ে লিন মিট খেতে পারেন। সাধারণ মাংসের থেকে ৩০ শতাংশ ওজন কমবে শুধু লিন মিট খাওয়ার জন্যই।

পানি: প্রচুর পানি পান করুন। পানি শরীরের নানা অসুখ থেকে আপনাকে নিরাপদ রাখবে। পানিস্বল্পতার কারণে মাথাব্যথা থেকে শুরু করে নানা অসুখ তৈরি হতে পারে। সেসব থেকেও মুক্তি মিলবে নিমেষেই।

মেথি: চা খাওয়ার সময় যোগ করুন কয়েকটা মেথির বীজ। হজমশক্তি তো বাড়বেই, সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণও হবে। আর যদি স্বাদ নিয়ে চিন্তিত থাকেন তবে চায়ে যোগ করে দিন এলাচ বা আদা। প্রথমে মেথি বীজ বেঁটে নিন। পানি ফুটিয়ে তাতে সেই পেস্ট মেশান। এবার চা পাতা দিয়ে আরো ফুটিয়ে নিন। খালি পেটে এমন চা খেলে মেদ ঝরবে খুব সহজে। মেথি খিদেও কমায়। খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় বলে স্বাভাবিক ভাবেই ওজন কমে।

মেথিতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড, যা দ্রুত ওজন কমাতে সক্ষম। মেথি গুঁড়ো গরম পানিতে মিশিয়ে খান। এর সাথে লেবু ও মধু মেশাতে পারেন। এক কাপ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সকালে পানি ছেঁকে খেয়ে ফেলুন।

অঙ্কুরিত মেথি: একটা পাত্রে মেথি বীজ নিয়ে তার উপর একটা ভিজা কাপড় দিয়ে রাখুন। মাঝে মাঝেই কাপড়টিতে পানি দিন। তিনদিন পর মেথি বীজের অঙ্কুরোদ্গম হবে। এই অঙ্কুরিত মেথি খেলে তা খুব সহজেই কমবে শরীরের মেদ।

ওজন কমে যাওয়ার পর অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর ভুল জীবনাচরণ আবার বাড়িয়ে দিতে পারে ওজন। সেটা একদিকে যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমন এতে তৈরি হতে পারে হতাশা। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম হতে হবে। আর প্রচুর জল খেতে হবে। স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন একই সাথে। শরীরে অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে জিম, যোগব্যায়াম, ডায়েটিং করতে হবে নিয়মিত।

Print Friendly, PDF & Email