বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

মোবাইলে রং-নম্বরে কল করে ৬০ বছরের বৃদ্ধার প্রেমে পড়েছিল এক ১৫ বছরের কিশোর। কিশোর বুঝতে পারেনি ওই মহিলার বয়স বেশি এবং তিনি স্বামীহারা। ফলে এক মাস ধরে প্রেম করে প্রেমিকাকে দেখতে গিয়ে তাকে বিয়ে করে ঘরে ফিরতে হয়েছে ওই কিশোরকে। এটাকে অনেকেই বলছেন, মোবাইল ফোনে রং-নম্বরে প্রেমের খেসারত।

কিশোরের সঙ্গে বৃদ্ধার বিয়ের এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের আসাম গোয়ালপাড়া জেলার শিমলিতোলা এলাকার হেপচাপাড়া গ্রামে!

জানা গেছে, এক মাস ধরে তাদের প্রেমপর্ব চলেছে মোবাইলে। দুরুদুরু বুকে কিশোর ছেলেটি তার প্রেমিকার সঙ্গে প্রথমবার দেখা করতে গিয়েছিল গত মঙ্গলবার। প্রেমিকার পরিবারের আবদার, আগে খাওয়াদাওয়া হোক। পেটপুরে ভাত, শেষ পাতে তেলাপিঠে খেয়ে কিশোর ‘স্বপ্নের রাজকন্যা’ দেখতে তৈরি। কিন্তু ঘোমটা টেনে ঘরে ঢুকলেন ৬০ বছরের এক মহিলা!

ফোনের ওপারে যাঁর কোকিল কন্ঠে মজে গিয়েছিল আসামের গোয়ালপাড়া জেলার শিমলিতোলা এলাকার হেপচাপাড়া গ্রামের ১৫ বছরের ওই কিশোরটি, সেই প্রেমিকাকে সরাসরি দেখে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। পালানোর চেষ্টা করেছিল। অভিযোগ, কন্যাপক্ষ ‘ধরে বেঁধে’ ওই পতিহীনার সঙ্গেই কিশোরের বিয়ে দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বউ নিয়েই বাড়ি ফিরেছে সে। বউয়ের বয়স শাশুড়ির থেকেও বেশ কয়েক বছর বেশি! কিন্তু নতুন বউমার দাবি, কাজি বিয়ে দিয়েছেন। স্বামীর ঘরেই থাকবেন তিনি।

প্রেমিক কিশোর মিস্ত্রির কাজ করে। ঘটনার বিবরণে সে জানায়, মাসখানেক আগে বঙাইগাঁওয়ে একজনকে ফোন করতে গিয়ে ভুল নম্বরে ফোন করে সে। ফলে ফোন কলটি চলে যায় বরপেটা জেলার সুখারচর গ্রামে, ওই মহিলার মোবাইলে।

সেই থেকে তাদের প্রেমের শুরু। ধীরে ধীরে ফোনেই তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হতে থাকে। কিশোর ফোনে বারবার দেখা করতে প্রেমিকাকে চাপ দেয়। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে প্রেমিকার শর্ত, যেদিন দেখা হবে সেদিন তাকে বিয়ে করতে হবে।

গত ১৬ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যায় ওই প্রেমিক কিশোর। বাড়ির লোক কাজি ডেকে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘নতুন বৌ’ দেখতে আশপাশের গ্রামের লোক ওই প্রেমিক কিশোরের বাড়িতে ভিড় জমায়। নতুন বউ দেখতে আসছে সবাই। কিন্তু পালিয়ে বেড়াচ্ছে তার কিশোর স্বামী। বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না নতুন বৌ।

এই অসম বিয়ে মানতে নারাজ নাবালক ছেলেটির পরিবার ও তার গ্রামের মানুষ। অল আসাম মুসলিম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আমসু) বিষয়টির নিষ্পত্তিতে এগিয়ে এসেছে। কিশোর ছেলেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ানোর ঘটনা জানতে পেরে চাইল্ডলাইন বিষয়টি আসাম রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনেও জানিয়েছে। জেলাশাসক বর্ণালী ডেকা জানিয়েছেন, এখনও পুলিশে অভিযোগ হয়নি। আইন মেনেই ব্যবস্থা হবে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

Print Friendly, PDF & Email