বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
বিনোদনডেস্ক

হলিউডের পর যখন ‘#মিটু’ ঝড়ে বলিউড তোলপাড়, ঠিক সেই মুহূর্তে অভিনেতা নানা পাটেকর ও চিত্র পরিচালক বিকাশ বহেলসহ আরও কয়েকজনের তালিকায় এবার যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে।

যামিনী খান্না নামের সাবেক এক বিমানসেবিকা দাবি করেছেন যে, ‘‘অভিজিতৎ জোর করে আমায় চুমু খাওয়ার চেষ্টা করছিল। আমার বাঁ কানে বার বার খোঁচাচ্ছিল।’’ গতকাল ০৯ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার ওই বিমানসেবিকা এই অভিযোগ করেছেন। অভিজিত ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এর আগেও উঠেছে।

তবে ওই বিমানসেবিকার যৌন হেনস্তার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন গায়ক অভিজিৎ। তিনি বলেছেন, ‘‘মোটা আর কুৎসিত দেখতে মহিলারাই এই ধরনের অভিযোগ সচরাচর করে থাকেন।’’ তিনি বলেন, যারা এখন এগিয়ে আসছেন তাদের বেশীরভাগই নোংরা, কুৎসিত মানুষ। কেউ মোটা, কেউ পাতলা’ হাসতে হাসতে এমনই জবাব দেন অভিজিৎ।

আপত্তিকর বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য আগে থেকেই নানাভাবে আলোচিত। কখনও পড়শি মহিলাকে কুকথা বলে, আবার কখনও শাহরুখ খানকে খোঁচা দিয়ে বা আরও অন্য কোনও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তিনি আলোচিত-সমালোচিত। বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বেশ কয়েকবার তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে বলে বলে জানা যায়।

শাহরুখের ব্যাপারে অভিজিতের দাবি, তাঁর জন্যই সুপারস্টার হতে পেরেছিলেন শাহরুখ খান। তিনি গান গাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বাদশা খানের কেরিয়ার।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম আয়োজিত আলোচনা সভায় অভিজিৎ বলেন, “আমার গলায় অনেক সুপারস্টার তৈরি হয়েছে। যত দিন শাহরুখ খানের জন্য গান গেয়েছি, ততদিন রকস্টার ছিলেন উনি। যেই বন্ধ করে দিয়েছি ওঁর পতন ঘটেছে। এতটাই পতন ঘটেছে যে আজ লুঙ্গি ডান্সে এসে পৌঁছেছেন।”

বাঙালিনিউজ

অভিজিতের দাবি কেউ তাঁকে বাদ দেননি, বরং তিনি নিজেই শাহরুখের হয়ে গাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে জানান, “সামান্য একটা কারণেই শাহরুখের জন্য গাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবির শেষ দৃশ্যে স্পট বয় থেকে শুরু করে ছবির সঙ্গে যুক্ত সক্কলকেই দেখানো হয়েছিল। বাদ গিয়েছিলেন শুধু গায়করা। ‘ওম শান্তি ওম’-এও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সবাই ধুম তানা গানটা গাইছিল, যা কিনা আমার গলায়। কিন্তু কোথাও তা উল্লেখ পর্যন্ত করা হয়নি। ওই ঘটনায় আমার আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছিল। কিন্তু যেচে আমার নাম যোগ করতে বলতে যাব কেন? আমার মধ্যে তো কোনও খামতি নেই। তা হলে আমি ওদের সামনে হাত পাতব কেন?”

এই মুহূর্তে নিজেকে বলিউডের অংশ বলে মানতেও নারাজ অভিজিৎ। তার কথায়, “এর চেয়ে নিজেকে সঙ্গীত জগতের অংশ বলতে ঢের ভাল লাগে।”

অপর এক ঘটনায় জানা যায়, ২০১৬ সালে পাকিস্তানি অভিনেতাদের ভারতে কাজ করা নিয়ে আপত্তি তোলে কিছু রাজনৈতিক দল। তার জেরে বিপাকে পড়েন পরিচালক করণ জোহর। কারণ ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে দুই পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খান এবং ইমরান আব্বাসকে নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। সেই সময় গোটা বলিউড তাঁর পাশে দাঁড়ালেও, বিপক্ষে কথা বলেন অভিজিৎ। সোশ্যাল মিডিয়ায় করণ জোহরকে সমকামি বলে উল্লেখ করে বিদ্রুপ করেন অভিজিৎ। শাহরুখ খান, সালমান খান এবং আমির খানকে নির্লজ্জ, পাকিস্তানি দালাল বলেও তোপ দাগেন অভিজিৎ।

তার আগে সালমান খানের পক্ষে মন্তব্য করেও বিতর্ক বাঁধান অভিজিৎ। ২০১৫ সালে গাড়ি চাপা মামলার শুনানি চলাকালীন সালমান খানের পাশে দাঁড়ান তিনি। অভিজিৎ বলেন, “কুকুর রাস্তায় শুলে তো মরবেই। গরিব বলে কি রাস্তা তাদের বাবার সম্পত্তি! একসময় আমারও ঘর বাড়ি ছিল না। কিন্তু কখনও রাস্তায় শুইনি।” প্রায় সব মহল থেকেই তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

তবে এবার যে মন্তব্য তিনি করেছেন, আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যেন শালীনতার সমস্ত মাত্রাই ছাপিয়ে গেলেন গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য।’

গায়কের কথায়, ‘‘বিষয়টা আমি ফোনে একজনের থেকে জানতে পারি। সে সময়ে তো আমার জন্মই হয়নি। আর আমার গোটা জীবনে একদিনের জন্যও আমি পাবে (পাশালায়) যাইনি। আমি ফিল্মি পার্টিতে গিয়েছি—এরকম কোনও ছবি পেজ থ্রিতে দেখতে পাবেন না। আমার নামটা আসলে বিক্রি হয়। আর তাতে যদি কারও লাভ হয়, তা হলে আমার সমস্যা নেই। মানে, আমার নাম ভাঙিয়ে কারও যদি খাবারের সংস্থানটা হয়ে যায়, তাহলে ঠিক আছে।’’

তবে গতকাল সাবেক বিমানসেবিকা যামিনী খান্না অভিযোগ করেছেন, ১৯৯৮ সালে পাবের (পানশালার) মধ্যে তাকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন গায়ক অভিজিৎ। তাঁকে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। জোর করে চুমু খাওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন গায়ক। এমনকী, আমার বাঁ কানে বারবার খোঁচা দিয়েছিলেন অভিজিৎ।

যামিনীর অভিযোগ, তিনি অভিজিতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায়, তাঁকে ‘বিচ’ বলে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করেছিলেন। যামিনীর দাবি, পাব কর্তৃপক্ষ তাকে চিনতেন। তাই ওই ঘটনার পর তারা এক মাস গায়ক অভিজিৎকে ওই পাবে ঢুকতে দেননি। ২০ বছর আগে কলকাতার একটি পাবে ঘটনাটি ঘটেছিল বলে দাবি করেছেন ওই বিমানসেবিকা।

সেই অভিযোগকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়ে অভিজিৎ সঙ্গে ব্যঙ্গ করে বলছেন, ‘‘সে সময় তো আমাক জন্মই হয়নি!’’ অভিযোগকারিনীর এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতেই নারাজ অভিজিৎ। তাঁর কথায়, ‘‘আমি সত্যিই জানিনা কার বিরুদ্ধে আমার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর ওই মহিলাকে আমি গুরুত্ব দিতেই বা যাব কেন? যে সমস্ত মানুষে এখন এই বিষয়টা নিয়ে সরব হচ্ছেন, আদতে তাঁরা নোংরা এবং কুৎসিত। কোই মোটা হ্যয়, কোই পাতলা হ্যয়! শুধুমাত্র মিডিয়ার নজরে থাকার জন্যই এই কথাগুলো বলছেন তাঁরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোটা এবং কুৎসিত মহিলারাই এমন অভিযোগ সচরাচর করে থাকেন। আর সেই সময়ে তো আমি জন্মাইনি, তাই কোনও প্রশ্নই ওঠে না।”

বাঙালিনিউজ

কয়েকদিন আগে ‘আশিক বানায়া আপনে’ খ্যাত সাবেক অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে ‘হর্ণ ওকে প্লিজেস’ ছবির সেটে অভিনেতা নানা পাটেকর তাকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। সেই অভিযোগ নিয়ে এখনও সরগরম বলিউড। শুধু নানা নয়, তনুশ্রী অভিযোগ করেন আরও দুই পরিচালকের বিরুদ্ধেও।

এছাড়া সম্প্রতি হিন্দি ছবি ‘চিলার পার্টি’, ‘কুইন’, ‘শান্দার’ আর ‘সুপার থার্টি’র চিত্র পরিচালক বিকাশ বহেলের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনছেন বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌতসহ আরও কয়েকজন।

হাফপোস্ট ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রনৌত বলেছেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাদের দেখা হতো। আমরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে অভিবাদন জানাতাম। কিন্তু এই সুযোগে বিকাশ তাঁর মুখ আমার ঘাড়ে গুঁজে দেন। আমাকে বেশ জোরে চেপে ধরতেন আর আমার চুলের ঘ্রাণ নিতেন। ওই সময় তিনি বলেছেন, “তোমার শরীরের ঘ্রাণ আমার ভালো লাগে কঙ্গনা।” ওই অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে আমাকে একটু বেগ পেতে হতো।’

Print Friendly, PDF & Email