বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে নির্যাতন করা হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বাবা। এই ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের শিবনাথের বস ঝাকুয়াবাড়ী গ্রামে, গত ০৩ আগস্ট ২০১৯ শনিবার রাতে। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও, এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের উড্ডামারী চরুয়াপাড়া গ্রামের জহুর আলীর মেয়ে মহসিনা খাতুনের সঙ্গে প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ ইউনিয়নের শিবনাথের বস ঝাকুয়াবাড়ী গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে মমিনুর রহমানের। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মহসিনাকে নানাভাবে নির্যাতন করতেন। দুই মাস আগে স্বামী মমিনুর কাজের খোঁজে ঢাকায় গেলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।

গতকাল ০৩ আগস্ট শনিবার গৃহবধূ মহসিনাকে বেধড়ক মারধর করেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। এই খবর পেয়ে মেয়েকে নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে তার শ্বশুরবাড়িতে যান জহুর আলী। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মহসিনার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তার বাবাকেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

ফলে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় পড়ে গিয়ে আকস্মিকভাবে মারা যান জহুর আলী। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। পরে গতকাল শনিবার রাতেই জহুর আলীর মেয়ে মহসিনা বাদী হয়ে নাগেশ্বরী থানায় শ্বশুরবাড়ির ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মহসিনা যাদের আসামি করে এই মামলা করেন তারা হলেন- শ্বশুর মোকছেদ আলী, শাশুড়ি রাশিদা বেগম, দেবর ওসমান গণি, ননদ আয়েশা খাতুন, চাচা শ্বশুর আজিজুল হক ও চাচি শাশুড়ি জোসনা বেগম।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন কবীর এ ব্যাপারে মিডিয়াকে বলেন, জহুর আলীর মেয়ে মহসিনা ৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ০৪ আগস্ট রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি জানান।

এদিকে, নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মহসিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আজ ০৪ আগস্ট রোববার তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, মনজু খাতুন (৫) ও মাহমুদুল হাসান (২) নামে মহসিনার দুটি সন্তান রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email