বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
সারাদেশ ডেস্ক

চট্টগ্রামে আত্মহত্যাকারী ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর পরকীয়া প্রেমিকসহ আসামিদের দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্ত্রী মিতুর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে চলতি ২০১৯ সালের গত ০১ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা করেন তার স্বামী

জানা গেছে, ডা. আকাশের আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা বিদেশে পলাতক রয়েছেন। ফলে আসামিদের দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যে আকাশ ও তার স্ত্রী মিতুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে মুছে ফেলা ছবি, ভিডিও এবং এসএমএস পুনরুদ্ধারের জন্য মোবাইল সেট দুটি সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তবে ডা. আকাশের মৃত্যুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।

চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার গণমাধ্যমকে জানান, ৬ জন আসামির মধ্যে শুধু মিতুকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিরা পলাতক। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ আসামি আমেরিকায় অবস্থান করছেন। স্ত্রীর পরকীয়াকে দায়ী করে চলতি বছরের গত ০১ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের তরুণ চিকিৎসক ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ।

এ ঘটনায় আকাশের মা জমিরা খানম বাদী হয়ে মিতুসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। বাকি ৫ জন আসামি হলেন, মিতুর মা শামীম শেলী, বাবা আনিসুল হক, বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা, মিতুর বন্ধু (পরকীয়া প্রেমিক) ডা. মাহবুবুল আলম ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় নাগরিক প্যাটেল।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন । পুলিশ মিতুর দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে। জিজ্ঞাসাবাদে আকাশের সাথে দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য ও কলহের বিষয়টি স্বীকার করেছেন । দিয়েছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও। তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করতে চায় না পুলিশ। এছাড়াও আকাশের পরিবারের দেওয়া তথ্যসহ অন্যান্য সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা মানসিক যন্ত্রণা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করায় আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মৃত্যুমুখে পড়েন মোস্তফা মোরশেদ আকাশ।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে তানজিলার সঙ্গে আকাশের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলেন তানজিলা।

অভিযোগে প্রকাশ, বিয়ের আগে ও পরে মিতু আসামি প্যাটেল ও মাহাবুবের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। তানজিলাকে বারবার শোধরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে অন্য আসামিদের চাপে পড়ে আত্মহত্যা করেন ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ।

গত ০১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোরে চাঁন্দগাঁ এলাকায় নিজ বাসায় শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন তরুণ চিকিৎসক ডা. মুস্তফা মোরশেদ আকাশ। এর আগে তিনি স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর পরকীয়াকে দায়ী করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। প্রমাণ স্বরুপ জুড়ে দেন বেশকিছু ছবি, ভিডিও এবং ম্যাসেজের স্ক্রিনশট। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, অনলাইন নিউজ।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts