বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
জাতীয় ডেস্ক

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার জার্মানির মিউনিখ শহরের হোটেল বায়েরিসখার হফে নিরাপত্তা সম্মেলন (এমএসসি) শুরু হয়েছে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন নিরাপত্তা সম্মেলনের চেয়ারম্যান ভুলফগ্যাং ইশিংগার। জার্মানির স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সম্মেলনের এই উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন দিনের এই সম্মেলন ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সূত্র: বাসস, বিডিনিউজ।

মানব নিরাপত্তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ ছয় শতাধিক নীতি-নির্ধারক, চিন্তাবিদ, ব্যবসায়ীসহ সমাজের অগ্রাগামী শ্রেণির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে এই ৫৫তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন

সম্মেলনে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা তথা বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মধ্যে সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই সম্মেলনে আরো অংশ নিচ্ছেন-জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, আফগান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গানি, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্লস আইওহানিস, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসের সদস্য ইয়াং জিয়েচি।

বাঙালিনিউজ

রাশিয়া, ইরান, ইরাক, কাতার, পাকিস্তান এবং ফিলিস্তিন-সহ ইউরোপ ও ন্যাটো জোটের বিভিন্ন দেশের চল্লিশ জনেরও বেশি পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। আজ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এমএসসি ২০১৯-এর চেয়ারম্যান এ্যাম্বাসেডর উলফগ্যাঙ ইশিঙ্গার। এছাড়া জার্মানির ফেডারেল সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ভন ডিয়ার লেয়েন এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যাভিন উইলিয়ামসন অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন।

গত পাঁচ দশক ধরে (এমএসসি) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত আলোচনায় বিশ্বের অন্যতম গূরুত্বপূর্ণ ফোরামে রুপ নিয়েছে। ‘বেস্ট থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কনফারেন্স’ হিসেবে বিশ্বে বিবেচিত ‘এমএসসি’ সুরক্ষিত ও অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, এমএসসি’র বার্ষিক ‘ফ্ল্যাগশিপ’সম্মেলনে নিয়মিতভাবেই সুনির্দিষ্ট বিষয় ও অঞ্চল নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয় এবং মিউনিখ সিকিউরিটি রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ২০১৭ সালে মিউনিখ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন । এ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের অংশগ্রহণ ছিল সেবারই প্রথম।

এবার নিরাপত্তা সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নিরাপত্তা হুমকি ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে দুটি সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা তার আলোচনা পর্বে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলবেন।

বাঙালিনিউজ

গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন আয়োজিত ‘হেলথ ইন ক্রাইসিস-হু কেয়ার্স’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাঝে ২০১৭ সালের নোবেলবিজয়ী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস-আইসিএএনের নির্বাহী পরিচালক বিয়াট্রিস ফিন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর ফাতোও বেনসুদা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

জানা গেছে, মিউনিখ সম্মেলন চলাকালে সিমেন্স এজির প্রেসিডেন্ট ও সিইও জোয়ে কাইজার এবং ভেরিডোস জিএমবিএইচের প্রধান নির্বাহী হ্যান্স উল্ফগাং কুনজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ভেরিডোস জিএমবিএইচ বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট বাস্তবায়ন করছে।

এই সফরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাবকারী সিমেন্সের সঙ্গে জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট চুক্তি হতে পারে বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট বোর্জ ব্রেন্ডি এবং জিগসর সিইও জারেড কোহেনের দেওয়া যৌথ নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার ‘ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যাজ এ সিকিউরিটি থ্রেট’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আরও কার্যকর হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বাঙালিনিউজ

এদিকে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) আরও বেশি ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জার্মানির মিউনিখে শুক্রবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ‘হেলথ ইন ক্রইসি-ডব্লিউএইচও কেয়ারস’ বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সব রাষ্ট্রকে নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আরও বেশি কার্যকর হতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় অর্থ সংকটের করণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের নিশ্চয়তা অবশ্যক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের সাথে সাথে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি অসাধারণ উন্নয়ন আনতে সক্ষম হয়েছে। ‘স্বল্প ব্যয়ে সুস্বাস্থ্য’ অর্জনে আমাদের প্রচেষ্টা আমাদেরকে রোল মডেলে পরিণত করেছ।

শেখ হাসিনা জানান, গত তিন দশক যাবত বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সেবাকে সকল নাগরিকের জন্য সহজলভ্য করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তিনি বলেন মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৭২ জনে, শিশু মৃত্যু প্রতি হাজারে ২৪ জনে, পাঁচের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হাজারে ৩১ জনে কমিয়ে আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবায় বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিগত সাফল্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে বলেও সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মিউনিখ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য জার্মানি পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান শেষে ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি আবুধাবি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে চতুর্দশ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে (আইডিইএক্স-২০১৯) অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts