বাঙালিনিউজ

বাঙালি নিউজ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক

সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে অন্যতম । এই গ্রহটি সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ। ব্যাসের দিক দিয়ে মঙ্গলগ্রহ পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক। কিন্তু পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের ৭০ শতাংশই জলাবদ্ধ থাকার কারণে, মঙ্গলগ্রহের ভূ-খণ্ডের পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।

মঙ্গল গ্রহের ইংরেজি নাম ‘মার্স’। এই শব্দটি এসেছে রোমান মাইথলজির যুদ্ধের দেবতার নাম থেকে। এর আগে জ্যোতির্বিদরা মঙ্গলকে লাল গ্রহ বলেই ডাকতেন। পৃথিবীর মতোই মঙ্গলগ্রহেও আছে বায়ুমণ্ডল, পাহাড়, উপত্যকা, মরুভূমি ও মেরুদেশীয় বরফ। পৃথিবীর মতোই মঙ্গলেরও ম্যাগনেটিক ফিল্ড রয়েছে।

পৃথিবীর একটি উপগ্রহ আছে, চাঁদ। আর মঙ্গলগ্রহের দু’টি উপগ্রহ, ফোবোস ও ডেইমোস। জোনাথন সুইফটের গালিভারস্‌ ট্রাভেলস্‌ বইতে নাম দু’টির প্রথম উল্লেখ করা হয়। মঙ্গলের উপগ্রহ আবিষ্কারের ১৫১ বছর আগেই গালিভারস্‌ ট্রাভেলস্‌ বইটি রচিত হয়েছিলো।

মঙ্গলগ্রহ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হলেও কোনো মানুষ এখনও সেখানে পা রাখেনি। তবে এবার মঙ্গলগ্রহেও পা রাখবে মানুষ। তাই মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসায় চলছে মঙ্গলগ্রহে মানব অভিযান নিয়ে তোড়জোড়। কিছু দিন আগে নাসা জানিয়েছে, আগামী এক দশকের মধ্যেই মঙ্গলে মানুষ পাঠাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাল গ্রহে প্রথম পা রাখতে যাচ্ছেন যে ব্যক্তি, তিনি ইতোমধ্যেই আমাদের মাঝে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার বয়স এখন ১০ থেকে ১৮ বছর।

আর যুক্তরাষ্ট্রের এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টিন বলছেন, মঙ্গলগ্রহে প্রথম পা রাখবেন যিনি, তিনি হবেন একজন নারী। তবে জিম ব্রাইডেনস্টিন তার নাম প্রকাশ করেননি। অবশ্য তিনি এও জানিয়েছেন যে, পরবর্তী ধাপে চাঁদেও পাঠানো হবে একজন নারীকে। সায়েন্স ফ্রাইডে নামের একটি রেডিও টকশোতে নাসার প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টিন এ কথা বলেছেন বলে খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

এছাড়া আগামী মাসে নাসা স্পেসওয়াক নামে একটি মিশন পরিচালনা করবে। এতে অংশ নেবেন শুধু নারীরা। অভিযানে জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যান ম্যাক্লেইন এবং ক্রিস্টিনা কোচ মহাশূন্যে ভাসবেন। তুলার মতো তারা সাত ঘণ্টা ধরে মহাকাশে হেঁটে বেড়াবেন। ব্রাইডেনস্টিন বলেছেন, এ দিনগুলো হবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, অ্যান ম্যাক্লেইন ও ক্রিস্টিনা কোচ দু’জনেই ২০১৩ সালের জ্যোতির্বিদদের শ্রেণীভুক্ত। ওই সময় যে পরিমাণ জ্যোতির্বিদ নাসায় যোগ দিয়েছেন তার মধ্যে অর্ধেকই নারী। এযাবৎকাল যত আবেদন জমা পড়েছে নাসায়, তার মধ্যে ওই সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন জমা হয়, যার সংখ্যা কমপক্ষে ৬১০০। সাম্প্রতিক ফ্লাইট ডিরেক্টর ক্লাসেরও শতকরা ৫০ ভাগ নারী।

Print Friendly, PDF & Email