বাঙালিনিউজ
গ্রাফিক চিত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, মহাকাশে ভারত এখন মহাশক্তি। ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল যুক্ত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের পরে মহাকাশে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ভারত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, মহাকাশের মহাশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করল ভারত। লোকসভা নির্বাচনের আগে আজ ২৭ মার্চ ২০১৯ বুধবার জাতির উদ্দেশে এক বার্তায় এ কথা জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।

আজ দুপুরের দিকে নরেন্দ্র মোদী জানান, কিছুক্ষণ আগেই অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল (এ-স্যাট) দিয়ে ভারত লো-আর্থ অরবিট (এলইও)-এ থাকা একটি কাজে না লাগা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করেছে। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই এই অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। ‘মিশন শক্তি’ নামের এই অপারেশনের সাফল্যের জন্য ডিআরডিও-র বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানান তিনি।

আজ ২৭ মার্চ ২০১৯ বুধবার সকালে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই টুইট করে জানান, দেশবাসীর উদ্দেশে ‘গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’ দিতে ভাষণ দেবেন তিনি। টুইটে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ১২টার মধ্যে তিনি কোনও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করবেন। তবে প্রায় আধ ঘণ্টা দেরি করে নিজের ভাষণ শুরু করেন মোদী।

ভারতের বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সকাল থেকেই বলা হয়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে পারেন তিনি। টিভি, রেডিও, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভাষণ সম্প্রচারের কথাও টুইট করে জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।


জাতির উদ্দেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ জাতির উদ্দেশে নিজের ভাষণ শুরু করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “ভারত আজ মহাকাশে অন্যতম শক্তি। মহাকাশে ভারত এখন চতুর্থ শক্তি।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডিআরডিও বিজ্ঞানীরা অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল দিয়ে কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহকে পরীক্ষামূলক ভাবে ধ্বংস করেছেন।” তিনি জানান, এই অপারেশনের নাম ছিল ‘মিশন শক্তি’।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এত দিন এই প্রযুক্তি ছিল শুধু আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের কাছে। ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে অ্যান্টিস্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করল। ফলে এবার ভারতও ওই তিন পরাশক্তির মতো মহাকাশে কোনও শত্রু উপগ্রহকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম। অর্থাৎ ভারতের হাতে এখন এসে গেল এ-স্যাট ক্ষেপণাস্ত্র।

উল্লেখ্য, মহাকাশে শত্রু উপগ্রহের মোকাবিলায় কাজ করে এই এ-স্যাট বা অ্যান্টি স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র। কোনও উপগ্রহের কক্ষপথে গিয়ে তাকে ধ্বংস করতে সক্ষম এই মিসাইল। প্রধাণত সামরিক ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার হয়ে থাকে। এখনও পর্যন্ত দুনিয়ায় অন্য কোনও ক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হয়নি। তবে কখনও যুদ্ধের প্রয়োজনে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ উপগ্রহ এই ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ধ্বংস করা সম্ভব। এতে বিপক্ষের সব স্বয়ংক্রিয় পরিকাঠামো অকোজ হয়ে পড়ে। ২০১০ সালেই এই ধরণের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের কথা জানায় ডিআরডিও।

২০০৭ সালে এই ধরনের এ-স্যাট মিসাইলের পরীক্ষা করে চিন(এসসি ১৯ এ-স্যাট)। ২০০৮ সালে ৩ এবিএম উপগ্রহ বিধ্বংসী মিসাইল পরীক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ২০১৫ সালে পিএল ১৯ নুডোল-এর সফল পরীক্ষা করে রাশিয়া। ২০১৬ সালে ফের এর সফল পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। পাল্লা ছিল ৮০০ কিলোমিটার।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণে বলেছেন, ‘দেশের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে অ্যান্টিস্যাটেলাইট প্রযুক্তি তৈরি বড় মাইলফলক উদ্ভাবন। আমাদের এ প্রযুক্তি কোনো ব্যক্তি বা দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কোনো আইন লঙ্ঘন করাও হয়নি। এটা জাতির স্বপ্নকে সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারতকে আরও সুরক্ষিত দেশ হিসেবে প্রমাণ করবে এ সক্ষমতা অর্জন।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এখন থেকে আমরা শুধু জলে, স্থলে, আকাশেই নয়, মহাকাশেও নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, জি ২৪ ঘণ্টা, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Print Friendly, PDF & Email