বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ হচ্ছে সৌদি আরব। কয়েক বছর ধরেই অস্ত্র ক্রেতা দেশগুলোর শীর্ষে অবস্থান করছে এই মুসলিম দেশটি। অন্যদিকে এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রেতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। সুইডেনের স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা এসআইপিআরআই’র বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের পর থেকে অস্ত্র আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরে দেশটির অস্ত্র আমদানি ১৯২ শতাংশ বেড়েছে।

সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বে ভারত হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ। বিশ্বে যত অস্ত্র বিক্রি হয়, তার শতকরা সাড়ে ৯ ভাগ অস্ত্র একা কিনে থাকে।

দি স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা এর এই গবেষণার নাম দেয়া হয়েছে ‘ট্রেন্ডস ইন ইন্টারন্যাশনাল আর্মস ট্রান্সফার-২০‌১৮’।

এসআইপিআরআই’র তথ্য অনুসারে-দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র ক্রেতা পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে। আর রাশিয়া হচ্ছে ভারতের শতকরা ৫৮ ভাগ অস্ত্রের যোগানদাতা। তবে রাশিয়া থেকে ভারতের অস্ত্র আমদানির প্রবণতা দিন দিন কমছে।

রাশিয়া থেকে ভারত ২০১৪ হতে ‘১৮ সালের মধ্যে অস্ত্র কিনেছে শতকরা ৫৮ ভাগ কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে ১৩ সাল পর্যন্ত এ অস্ত্র কেনার পরিমাণ ছিল শতকরা ৭৬ ভাগ। সে হিসাবে দেখা যায়- ভারত রাশিয়া থেকে চার বছরে ১৮ ভাগ অস্ত্র কেনা কমিয়েছে। এ সময়ে ইহুদিবাদী ইসরাইল, আমেরিকা ও ফ্রান্স ভারতে অস্ত্র বিক্রি বাড়িয়েছে।

মুসলিম দেশ মিসর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও শীর্ষ ১০ অস্ত্র ক্রেতা দেশের তালিকায় রয়েছে।
এর আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই দুটি দেশ মিলে যে পরিমাণ অস্ত্র আমদানি করছে, তার পরিমাণ পশ্চিম ইউরোপের সব দেশের চেয়েও বেশি।

এছাড়া এসআইপিআরআই’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রই এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রেতা দেশ। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ। আর এ আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো।


ভারতের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ সৌদি আরব সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে৷ অস্ত্র ক্রয়ে ৩ হাজার ১৬১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ২০১৫ সালের শীর্ষ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হয়ে গেছে সৌদি আরব৷ ২০১৪ সালে এ তালিকায় শীর্ষে ছিল ভারত, সৌদি আরব ছিল দ্বিতীয় স্থানে৷ ওই বছর ৩ হাজার ৪৮৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এক বছরের শীর্ষ অস্ত্র আমদানিকারক দেশের তালিকায় সবার ওপরে ছিল ভারত৷

সিপ্রি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশও ভারত৷ ২০১৫ সালে এই খাতে ৩ হাজার ৭৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে তারা৷ ২০১৫ সালে শীর্ষে উঠে এসেছে সৌদি আরব৷

তবে এর আগে সংঘাত ও সশস্ত্রীকরণসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শীর্ষ অস্ত্র ক্রেতার তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত। বলা হয়, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে অস্ত্র আমদানি বাড়িয়েছে দক্ষিণ এশীয় দেশটি।

এসআইপিআরই তার আগের প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৩-২০১৭ মেয়াদে বিশ্বব্যাপী রফতানি হওয়া মোট অস্ত্রের ১২ শতাংশ কিনেছে ভারত। আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ শতাংশ। ২০১৩-২০১৭ মেয়াদে ভারতকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে ছিল রাশিয়া। ভারত মোট আমদানিকৃত অস্ত্রের ৬২ শতাংশ কিনেছে মস্কোর কাছ থেকে।

ভারত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ অস্ত্র আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। আগের ৫ বছরের তুলনায় ভারতে ২০১৩-২০১৭ মেয়াদে আমদানি বেড়েছে ৫৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে উত্তেজনাকর সম্পর্ক বলবৎ থাকা পাকিস্তান ২০১৩-২০১৭ মেয়াদে অস্ত্র আমদানি কমিয়েছে ৩৬ শতাংশ। তারপরও ২০১৩-২০১৭ মেয়াদে পাকিস্তানের আমদানি করা অস্ত্র ওই মেয়াদে বিশ্বের পুরো রফতানি হওয়া অস্ত্রের ২.৮ শতাংশ।

২০১৩-২০১৭ মেয়াদে সৌদি আররে অস্ত্র আমদানি বেড়েছে ২২৫ শতাংশ। একই সময়ে তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ মিসরের অস্ত্র আমদানির পরিমাণ বেড়েছে ২১৫ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৩-২০১৭ মেয়াদে চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসবে চিহ্নিত হয়েছে। আর ২১তম অবস্থান থেকে এসে শীর্ষ ক্রেতাদের মধ্যে ৫ম স্থানটি দখল করেছে ইন্দোনেশিয়া। সূত্র: পার্সটুডে, অনলাইন নিউজ।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts