বাঙালিনিউজ
৮৩ বছরের বেশি পুরোনো সুকিজি বাজারটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত ছিল সব সময়। ছবি: এএফপি

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

জাপানের রাজধানী টোকিওর বিখ্যাত সুকিজি মার্কেট ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাছের বাজার। ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ৮৩ বছর বয়সী এই বাজারটি গত ০৬ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওইদিনই দুপুরে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে সুকিজি বাজারের বেচাকেনার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এরপরই শত শত মাছ বিক্রেতা নতুন বাজারে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

টোকিওর কেন্দ্রস্থল থেকে এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মাছের বাজারটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কৃত্রিম দ্বীপ তোয়োসুতে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে তোয়োসুতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মাছের বাজার বসবে। কারণ, সুকিজি মার্কেট ভেঙে আগামী ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় টোকিও অলিম্পিকের জন্য অস্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। জাপান সরকার এই ঐতিহ্যবাহী মার্কেটটি সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাঙালিনিউজ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাছের বাজারটি গত ৬ অক্টোবর বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: এএফপি

বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাজারটি ছিল খুব জনপ্রিয়। তাই বাজারটি বন্ধের সিদ্ধান্তে অনেক বিদেশি পর্যটক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সুকিজিতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমাতেন। আর প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ হাজার মানুষ কেনাকাটা করতেন।

বাজারটি ছিল সামুদ্রিক মাছের জন্য বিখ্যাত। নানা ধরনের ও বিভিন্ন দামের চার শতাধিক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যেত সেখানে। তবে টুনা মাছের জন্য বেশি পরিচিতি ছিল বাজারটির। শনিবার বন্ধের দিনও ভোরে সুকিজি মার্কেটে সর্বশেষ নিলামে ১৬২ কেজি ওজনের টুনা মাছ ৩৭ হাজার ৮১৮ ডলারে বিক্রি হয়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, দৈনিক প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের মাছ বিক্রি হতো সুকিজি বাজারে।

শুধু তাই নয়, সুকিজি বাজারে সব সময় নির্ভেজাল পণ্য বিক্রি হতো। ভালো পণ্যের জন্য সেখানে ভিড় লেগেই থাকতো। তাই বাজার বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন অনেকে। স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে র‍্যালিতে অংশ নেন দোকান মালিক, ব্যবসায়ী-শ্রমিক ও তাঁদের স্ত্রী-সন্তানেরা। ২০১০ সালের নিবন্ধন অনুযায়ী বাজারটিতে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার কর্মী কাজ করতেন।

বাঙালিনিউজ
এই বাজারে বড় বড় তিমি মাছও পাওয়া যেত। তবে টুনা মাছের জন্য ছিল বিখ্যাত

অবশ্য বাজারটি ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছিল। কর্তৃপক্ষ নতুন জায়গায় বাজারটি সরিয়ে নেওয়ার এটাও একটা কারণ। তাছাড়া সুকিজিকে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের জন্য অস্থায়ী পার্কিংয়ের কারণ তো রয়েছেই। তবে আগামীতে সেখানে একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এসব কারণেই টোকিও তোয়োসুতে বাজারটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে কেউ কেউ বলছেন, বাজারটি সরিয়ে নেওয়ার পর আগের জনপ্রিয়তা আর থাকবে না। অথচ সুকিজি বাজারকে কেন্দ্র করে টোকিও উপসাগরের পাড়ে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁ ও সুপার মার্কেটগুলো জাপানের অর্থনীতিতে বেশ ভূমিকা রেখেছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন ও রয়টার্স