বাঙালিনিউজ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ রোববার অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেওয়া বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭৪ জন প্রার্থী হাইকোর্টে নির্বাচনী মামলা করেছেন। আবেদনে তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল চেয়েছেন। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থীরা হাইকোর্টে এসব দায়ের করেছেন।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের এসব নির্বাচনী মামলার বিষয়ে আওয়ামী লীগ কী ভাবছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মামলার বিষয়টি আমলে নেওয়ার কিছু নেই। নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সম্পূর্ণ এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের।

বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের মামলা নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, মোটেও না-এটা তো অস্বাভাবিক বা নতুন কিছু বিষয় নয়। পরাজিত ব্যক্তির অবলম্বন আইনের কাছে আশ্রয় নেয়া, তিনি আইনের কাছে আশ্রয় নেবেন। আইনের আশ্রয় নিয়েছেন, অসুবিধা কী? আদালত খতিয়ে দেখবেন নির্বাচন কমিশন জবাব দেবে, আমাদের কোনো বিষয় নয়। এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করতে পারেন, তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন। নির্বাচনে পরাজিতরা ট্রাইব্যুনালের সম্মুখীন হন, ট্রাইব্যুনালে তাদের অভিযোগ পেশ করেন, এটা নতুন কিছু নয়। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অধিকার আছে, তিনি মামলা করতে পারেন। এ বিষটায় আমাদের কিছু করণীয় নেই। যেহেতু নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনে যারা জয়লাভ করেছে, তাদের গেজেট প্রকাশ করেছে এবং বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছে। এখন ট্রাইব্যুনালে যদি কেউ মামলা করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর, এ বিষয়টার দায়টা বর্তায় নির্বাচন কমিশনের। তারাই এখন বিষয়টা নিয়ে আদালতে গিয়ে মোকাবিলা করবেন, লিগ্যাল ব্যাটেল তারা ফেস করবে, এটাই নিয়ম। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।

তবে এ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো নৈতিক অধিকার বিএনপির নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে ১৫ ফেব্রুয়ারি। এই ১৫ ফেব্রুয়ারিতে প্রহসনের নির্বাচন করেছিল বিএনপি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনও হয়নি। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যারা কলঙ্কিত, তাদের মুখে অন্য কোনো নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত না।

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সাত্তার, সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নাম পরিবর্তন এবং মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে রাজনীতিতে আসতে চাইলে আওয়ামী লীগের অবস্থান কি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাগত জানাবে কি জানাবে না সেটা তো এখানে কোনো বিষয় নয়। তারা অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে কি না, তারা ক্ষমাপ্রার্থী কি না, তারা ক্ষমাটা আগে চাক। ক্ষমা চাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে ভাববেন তারা। জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দল হিসেবে বিএনপি ‘এলোমেলো অবস্থায়’ আছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্ত নিলেও দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা তা মানবেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হলেও বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে আমার মনে হয়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দলীয়ভাবে দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলেও অনেক জায়গায় স্থানীয়ভাবে তাদের অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেই হিসেবে দলীয়ভাবে না হলেও তাদের (বিএনপি) উপস্থিতি এখানে থাকছে। স্থানীয় নির্বাচনে অন্যান্য দলের প্রার্থী ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকে। কাজেই এখানে নির্বাচন একেবারে উত্তাপহীন পরিবেশে হবে এমনটা বলা যায় না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল যেন বৃদ্ধি পায়, সেই কৌশল থেকেই বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগের অন্তঃকলহ বাড়বে, তাতে বিএনপির লাভ কী? রেজাল্ট কি তাদের পক্ষে আসবে? নৌকার প্রার্থী না জিতলে বিদ্রোহী প্রার্থী জিতবে। সে-ও তো আওয়ামী লীগের। তাতে বিএনপির লাভ কী?

উপজেলা চেয়ারম্যান পদ শেষ পর্যন্ত উন্মুক্ত করা হবে কিনা? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যেন সেখানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকে। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমরা আমাদের নৌকা প্রতীক দিয়েছি, উপজেলা চেয়ারম্যান পদ আমরা উন্মুক্ত করিনি। আর যেহেতু ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না সেটাও উম্মুক্ত থাকতেই পারে।

উপজেলা নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে কিনা? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, প্রার্থী হওয়ার আগে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে আমি কাউকে বিদ্রোহী প্রার্থী বলতে পারি না। আমরা দেখছি কারা কারা নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পরও বিদ্রোহ করে। এমন কেউ করলে বিষয়টি আমরা দেখবো। এর জন্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts