বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
জাতীয়ডেস্ক

আজ ০৮ মে ২০১৯ বুধবার, বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০১৯’ প্রদান করা হয়েছে। তিনজন গুণী লেখক ও গবেষককে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে রবীন্দ্রসাহিত্য গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমদ ও অধ্যাপক বেগম আকতার কামালকে এবং রবীন্দ্রসংগীত চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পী ইকবাল আহমেদ-কে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিষারদ মিলনায়তনে এই পুরস্কার বিতরণ এবং রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপিত হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও শিল্পীর হাতে পুষ্পস্তবক, সনদ, সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ‘রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ : শিক্ষা ও স্বদেশ ভাবনা’ শীর্ষক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনোয়ারুল করীম।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনার মূলে ছিল আনন্দের ধারণা, যে শিক্ষা-কাঠামোয় কঠিন শাসনের পরিবর্তে ছিল উদারতার আবহ। রবীন্দ্রনাথ দেশপ্রেমে স্নাত ছিলেন। তবে কোনোভাবেই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর মানবভাবনার মূলে ছিল অসাম্প্রদায়িক বিশ্বনাগরিকের সুদৃঢ় অবস্থান।

অধ্যাপক আনোয়ারুল করীম বলেন, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ও স্বদেশভাবনা অনন্যতার দাবি রাখে। তাঁর শিক্ষাভাবনা ছিল প্রায়োগিক এবং বৈজ্ঞানিক। তিনি পূর্ববাংলায় জমিদারির দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন কিন্তু একই সঙ্গে পালন করেছেন মানবিক দায়িত্ব। বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের জীবন মানোন্নয়নে তাঁর ভাবনার অন্ত ছিল না। তিনি ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে তাঁর স্বদেশভূমিকে লুণ্ঠিত হতে দেখেছেন। এই লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে আত্মশক্তি জাগরণের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ স্বদেশকে নতুন করে নির্মাণের ব্রত নিয়ে আমৃত্যু সাধনা করে গেছেন।

পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী শামা রহমান এবং রবীন্দ্রপুরস্কারে ভূষিত ইকবাল আহমেদ। রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী রূপা চক্রবর্তী। সূত্র: বাসস।

Print Friendly, PDF & Email