বাঙালিনিউজ
বিনোদনডেস্ক
বললেন মহেশ ভাট, ‘মুসলিম সিঙ্গল মায়ের অবৈধ সন্তান আমি’। এই বিস্ফোরক মন্তব্য করে ফের সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন তিনি। বলিউডের প্রথম সারির প্রযোজক-পরিচালকদের অন্যতম মহেশ ভাট, ভারতের বিখ্যাত সংবাদ মাধ্যম ‘হিন্দুস্থান টাইম’সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সাহসী মন্তব্য করেন তিনি, তাঁর অতীত জীবনের কথা বলতে গিয়ে৷
মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, এই সব কাছের সম্পর্কের মধ্যেও অনেক সময় থাকে নানা টানাপোড়েন, মাঝে মধ্যেই সম্পর্কের বন্ধন শিথিল হয়ে পড়ে। আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে পরস্পরের প্রতি। আর তখনই কাছের সম্পর্ক ও মানুষগুলো আমাদের অনেক সময় অচেনা হয়ে যায়।

সম্প্রতি ‘হিন্দুস্থান টাইম’সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকরে ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে মহেশ ভাট যে সব খোলামেলা কথা বলেছেন, তাতে উঠে এসেছে অতি আপনজনের মধ্যে সম্পর্কের সেই টানাপড়েনের চিত্র।

বলিউডের নামজাদা পরিচালক মহেশ ভাট, অত্যন্ত স্পষ্টভাষী। বরাবরাই নিজের জীবন নিয়ে খোলামেলা তিনি। তাঁর অকপট বক্তব্য মাঝে মধ্যেই আলোড়ন ফেলে ফিল্মি দুনিয়ায়। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেও আলোচনায় এলেন জীবনমুখী পরিচালক মহেশ ভাট৷ তাঁর একের পর এক সিনেমায়ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্প উঠে এসেছে।

মহেশ ভাটকে ওই সাক্ষাৎকারে তাঁর মা-বাবা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজেকে একজন অবৈধ সন্তান বলে উল্লেখ করেন। সাংবাদিকরা বাবা হিসেবে তিনি কেমন, এই প্রশ্ন করলে মহেশ ভাট স্পষ্ট জানান, বাবা কেমন হয়, কি তার ভূমিকা, তা তিনি জানেন না৷

এই কথা বলার পরই মহেশ ভাট বলেন, তিনি একজন মুসলিম সিঙ্গল মায়ের অবৈধ সন্তান৷ তাঁর মায়ের নাম শিরিন মহম্মদ আলি৷ বাবার কোনও স্মৃতিই তাঁর মনে নেই৷ মহেশ ভাট জানান, বাবা নানাভাই ভাটকে কখনও তিনি বাবা হিসেবে পাননি৷

মহেশ ভাটের মা শিরিন মহম্মদ আলি ছিলেন একজন গুজরাতি অভিনেত্রী। আর মহেশ ভাটের বাবা নানাভাই ভাট ছিলেন গুজরাতি ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান। তিনিও একজন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন।

‘আর্থ’, ‘জখম’ সিনেমায় তার জীবনের গল্প দেখেছেন দর্শকরা। এ ছাড়া ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার প্লাসে প্রচারিত ‘নামকরণ’ ধারাবাহিক নাটকে তারই শৈশবের গল্প দেখানো হয়েছে। তার অন্যান্য সিনেমার মতো ওই ধারাবাহিকটিও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

মহেশ ভাট নামটি তিনি তাঁর বাবা নানাভাই ভাট থেকেই পেয়েছিলেন। এবিষয়ে মহেশ ভাট বলেন, আমি একবার আমার মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আামার নামের অর্থ কী? তখন মা আমায় বলেছিলেন, এর অর্থ আমি তোমার বাবাকে জিজ্ঞাসা করে বলব। আমি অপেক্ষা করেছিলাম, যতক্ষণ না পর্যন্ত উনি আমায় আমার নামের অর্থ জেনে বলেছিলেন।

তিনি বলেন, মহেশ অর্থাৎ মহা+ঈশ। এর অর্থ ঈশ্বরের ঈশ্বর। যদিও শৈশবে আমি সেই ক্রুদ্ধ ঈশ্বরকে পছন্দ করতাম না, যিনি তাঁর সন্তানের মাথা কেটে নিয়েছিলেন। তার চেয়ে আমি গণেশকে বেশ পছন্দ করতাম। আমি ছেলেবেলায় ছোট্ট গণেশের মূর্তি বালিশের তলায় রেখে ঘুমোতাম। তিনি আমার ভীষণ প্রিয় ছিলেন। গণেশের বাবার মতোই আমার কাছে আমার বাবাও একজন আগন্তুক ছিলেন।

মহেশ ভাট নামটির প্রসঙ্গে তিনি জানান, মহেশ ছোটবেলায় অপেক্ষা করতেন বাবার জন্য। কবে বাবা আসবেন, তার নাম কেন মহেশ রাখলেন, তা বুঝিয়ে দেবেন। না! সে অপেক্ষায় কোনও লাভ হয়নি। কারণ, কোনও দিনই বাবা ছেলের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।

বাবাকে না পাবার এই কষ্ট এতটা বছর বুকে চেপে ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের বাবা মহেশ। বাবার পরিচয় অবশ্য মায়ের কাছেই পান মহেশ। মা ও ছেলে কারও প্রতি দায়িত্ব পালন করেননি মহেশের বাবা।

সাক্ষাৎকারে কিছুটা আক্ষেপের সুরে মহেশ ভাট বলেন, আমি আমার ময়ের স্বপ্নের সন্তান হতে পারিনি। আমি চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। আমি স্কুলে পড়াশোনায় ভালো ছিলাম না (মহেশ ভাট ডনবস্কো স্কুলে পড়তেন)। আমি একটা ভালো চাকরি জোটাতে পারিনি। আমি যখনই কিছু চেষ্টা করেছি, সেটাই ভুল করে, ভয়ানক করে ফেলেছি। এজন্য অবহেলিত ছেলেবেলা ও অন্ধকার অতীতকেই দায়ী করেছেন এই বিখ্যাত বলিউড নির্মাতা-প্রযোজক।

এই সাক্ষাৎকারে জীবনের অপ্রকাশিত গল্পে মহেশ ভাট আরও বলেন, আমার অনুপস্থিত বাবা থেকে শুরু করে সব সম্পর্কের বিষয় আমাকে আমি হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, যখনই আমি আমার নিজের মুখোমুখি হয়েছি, আমার আত্মপরিচয় সম্পর্কে জেনেছি, তখনই হোঁচট খেয়েছি। তবে আমি আমার সমস্ত গোপন বিষয় বলতে সক্ষম হয়েছি। আমি আসলে কে, তা জেনে যখন বিব্রত হয়েছি, সেটা নিয়েই বলেছি।

তিনি বলেন, তবে শেষ পর্যন্ত আমি আমার বাবার সঙ্গে সমঝোতা করেছিলাম। তাতে শান্ত হয়েছিলাম। কারণ, আমার সমস্ত অযোগ্যতার মধ্যেও আমি তাঁকেই পেয়েছি। আসলে মানুষ যত বড় হয়, তখন তাঁর কাছে অনেক কিছুই সহনীয় হয়ে ওঠে।

মহেশ নিজের জীবনের গল্পে আরও জানান, একজন নারীর জন্য তিনি নিজের পরিবার, তিন বছরের ছেলেকে ছেড়ে চলে এসেছিলেন৷ তবে ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও খারাপ হয় নি, সে কথাও জানান তিনি৷ বলিউডের আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক মহেশ ভাটের সিনেমা বিভিন্ন সময় অসংখ্য কারণে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। কিন্তু শুধু ছবি নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আলোচিত-সমালোচিত।  জন্ম থেকেই ঘটনাবহুল তাঁর জীবন। তার পিতা-মাতা কোনও দিন বিয়ে করেননি। তার বাবা ছিলেন হিন্দু, মা ম‌ুসলমান।

জীবনে বহু নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন মহেশ। কল‌েজ-জীবনে লোরিয়েন ব্রাইট নামের এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে মহেশের। পরে ওই মহিলার নাম পরিবর্তন করে মহেশ নাম রাখেন কিরণ। এই কিরণই মহেশের সন্তান পূজা ভাট এবং রাহুল ভাটের মা।

কিরণের সঙ্গে বিবাহিত জীবনযাপনের সময়েই অভিনেত্রী পারভিন ববির সঙ্গে প্রেম হয় মহেশের। কিন্তু সে সম্পর্কও বেশিদিন টেকে নি। এরপর সোনি রাজদানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়়েন মহেশ। হিন্দু হিসেবে তিনি পরিচিত হলেও, সোনিকে বিয়ে করার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আলিয়া ভাট এবং শাহিন ভাট সোনি রাজদানেরই মেয়ে।

তবে মহেশকে নিয়ে জোর বিতর্ক ওঠে, একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের কভার শ্যুটের জন্য মেয়ে পূজা ভাটকে চুম্বন করার পর। নিবিড় ভাবে চুম্বনরত পিতা-কন্যার এই ছবি পত্রিকার প্রচ্ছদে প্রকাশিত হলে ভারতজুড়ে সমালোচনা হয়। বাবা-মেয়ের এই ঘনিষ্ঠ চুম্বনকে ‘অশ্লীল’ দাবি করে বিক্ষোভ পর্যন্ত হয়েছে।

তবে এই কাহিনীর এখানেই শেষ না। এই ঘটনার কিছুদির পর একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে মহেশ ভাট বলেন, ‘আমি পূজাকে বিয়ে করতে চাই। ও যদি আমার মেয়ে না হতো, তা হলে আমি সত্যিই ওকে বিয়ে করতাম।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর ফের সমালোচনার ঝড় ওঠে। সূত্র: ইন্টারনেট-একাধিক অনলাইন নিউজ।

Print Friendly, PDF & Email