বাঙালিনিউজ
আজ ০৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ প্রেক্ষাপটে নেপথ্যে থেকে বঙ্গমাতা মুজিবের অসামান্য অবদান রেখেছেন। ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কোনো পদ পদবীর অধিকারী না হয়েও ছিলেন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের এক অনন্য প্রতীক। আজ ০৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কথা বলেছেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গমাতা ছিলেন এক অসামান্য আত্মপ্রত্যয়, দৃঢ় মনোবল, সাহস এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এসময় তিনি বঙ্গমাতার জীবনের আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি।

সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তারানা হালিম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠার ক্ষেত্রে মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অনন্য সাধারণ ভূমিকা ছিল। তিনি দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা যুগিয়েছেন, দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন, নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বঙ্গমাতা ভেঙে পড়েননি, শক্ত হাতে পরিবারের হাল ধরেছেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে পাকিস্তানি সামরিক সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসতে নিষেধ করে বাংলার স্বাধীনতার পথ খুলে দিয়েছিলেন বঙ্গমাতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার এই দূরদর্শী চিন্তা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গমাতার উৎসাহে বঙ্গবন্ধু কারাগারে আত্মজীবনী লিখেন। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক অজানা ইতিহাসের সম্ভার। এই আত্মজীবনী সংরক্ষণে বঙ্গমাতার ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতার সঙ্গে বুলেটের নির্মম আঘাতে জীবন দিতে হয়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে, মরণেও তিনি স্বামীর সহযাত্রী হয়েছেন।

তিনি বলেন, এই মহীয়সী নারী ছিলেন প্রচারবিমুখ। পর্দার অন্তরালে থেকে দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে নিরন্তর প্রেরণা যুগিয়েছেন। তার ত্যাগ, দেশপ্রেম ও আদর্শ অনন্তকাল আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। পরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email