বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্টল বোমা হামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এই হামলায় তিনজন মহিলা যাত্রী আহত হয়েছেন। ওই তিন যাত্রী হলেন- নীলফামারীর সদর উপজেলার জয়তুণ্ডী পুঠিহারি গ্রামের মোজাম্মেল হকের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা (৫৫), একই জেলার জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী মতিয়া বেগম (৪০) ও টাঙ্গাইলের শান্তিনগর গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে শামীমা বেগম (২৭)। দগ্ধ ৩ জনকেই বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রায় ঘোষণার আধা ঘণ্টার মধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোমা ছুড়ে মারার ঘটনাটি ঘটে। নীলফামারী থেকে বাসটি ঢাকায় যাচ্ছিল। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রাধারঘাট এলাকা অতিক্রম করার সময় বাসের ভেতরে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। এতে বাসের সামনের আসনে থাকা তিন নারী যাত্রী দগ্ধ হন। বাসচালক আসলাম ও শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুম্মনের নেতৃত্বে টহল পুলিশের একটি দল ধাওয়া করে হামলাকারীদের একজনকে আটক করে। সে জেলা যুব দলের সহকারী কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। ওই যুবদল নেতার নাম নুর মোহাম্মদ।

পুলিশ ধারণা করছে, ঢাকার একটি আদালতে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় রায় ঘোষণার জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাসযাত্রী আমিনা খাতুন জানান, দুর্বৃত্তরা পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করলে চালক বাস থামিয়ে দেন। এরপর দুর্বৃত্তরা গাড়ি ভাঙচুর করে। তার সামনের সিটে আগুন ধরে গেলে তিনি সন্তানকে নিয়ে জানালা দিয়ে নেমে পড়েন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী মিডিয়াকে বলেছেন, “আমরা জানতে পেরেছি কয়েকজন দুর্বৃত্ত শাহজাহানপুরে বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেছে। এ সময় একটি বাসে তারা পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারলে, তিনজন যাত্রী আহত হয়েছেন।” হামলার পর বাসটিকে স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ওই বাসের একজন যাত্রী কাজী আইনুন নাহার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাস্তার ওপর ১৫/২০ জন লাঠিসোটা নিয়ে প্রথমে বাসটি থামানোর চেষ্টা করে। এরপর তারা বাসটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পরে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে। এতে বাসটির সামনের দিকে বসে থাকা তিনজন নারী যাত্রীর শরীরে আগুন ধরে যায়।

আহত আরেকজন যাত্রী মুনিরা বেগম বলেন, বাসের সামনে বসে ছিলাম। হঠাৎ করে কি যেন একটা ছুটে আসলো, এরপর আমার গায়ে আগুন ধরে গেলো। এরপর আর কিছু মনে নেই।

এর আগে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় অনেক যানবাহনে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এসব হামলার জন্য বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দায়ী করে আসছে সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে।

তবে বিএনপি ও জামায়াতের তরফ থেকে এসব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ সবসময়েই অস্বীকার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আজ ১০ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপি সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার ওই আদালত।