বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

‘দানবীয়’ ঘূর্ণিঝড় মাইকেলের প্রচণ্ড আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল। বিবিসি জানিয়েছে, চার মাত্রার এ হারিকেনের ফলে সমুদ্র তীরবর্তী শহরগুলোতে তাৎক্ষণিক ভাবে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। অসংখ্য বাড়িঘর ডুবে গেছে, শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একজনের মৃত্যুর খবরও জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ঘণ্টায় ২৫০ মাইল বেগে চলা ঘূর্ণিঝড়টি ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল মেক্সিকো উপসাগরের কাছে প্যানহ্যান্ডেলে আছড়ে পড়ে স্থানীয় সময় গতকাল ১০ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার সন্ধ্যায়।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ঝড় বয়ে যাচ্ছে। নির্মাণাধীন ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ঝড়ের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে ফ্লোরিডা, আলাবামা ও জর্জিয়ায়। মাইকেলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল রেখা বরাবর ৩০০ মাইলের বেশি এলাকা ঝুঁকির মুখে আছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড়টি ফ্লোরিডায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে আলাবামা ও জর্জিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ ১১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এটি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

এর আগে গত রোববার ক্রান্তীয় নিম্নচাপ হিসেবে যাত্রা শুরু করা ঝড়টি ০৯ অক্টোবর মঙ্গলবার দুই মাত্রার হারিকেনে রূপ নেয়। আর গতকাল ১০ অক্টোবর বুধবার ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল গতির বাতাস নিয়ে আঘাত হানার সময় এর মাত্রা ছিল পাঁচের প্রায় কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ধেয়ে যাওয়ার পথে মাইকেলের দ্রুত শক্তি অর্জন আবহাওয়াবিদদেরও বিস্মিত করেছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট মাইকেলকে এক ‘দানবীয়’ ঝড় বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বাঙালিনিউজ

ফ্লোরিডায় আঘাত হানার আগে মাইকেল মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও এল সালভাদরে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় এলাকায় তীব্র বেগে ধেয়ে এসে মাইকেল তীব্র বাতাসে বহু গাছপালা উপড়ে ফেলে। এতে প্রায় আড়াই লাখ বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই দানবীয় ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে, ফ্লোরিডার ৩ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়। তবে অনেকেই সেই নির্দেশ মানেন নি। তাই মাইকেল আঘাত হানার আগেই অধিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কর্মকর্তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ১৯৬৯ সালে মিসিসিপি ও ১৯৩৫ সালে লেবার ডে-তে ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়া ঝড়ের পর মাইকেলই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। রেকর্ড অনুযায়ী, এর আগে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেলে চার মাত্রার কোনও ঝড় আঘাত হানেনি। এ কথা জানিয়েছেন এনএইচসির আবহাওয়াবিদ ডেনিস ফেল্টজেন।

মাইকেলের তীব্র বাতাস ২০০১ সালের আগের নির্মিত বাড়িগুলোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন মার্কিন কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার পরিচালক ব্রুক লং। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “ওই স্থাপনাগুলো যেন টিকে থাকে, সেটিই আমাদের আশা। আর যদি টিকে থাকতে না পারে, তাহলে সেগুলোতে যেন কোনও লোকজন না থাকে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন হ্যারিকেন মোকাবেলার জন্য আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত।’ মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঝড়টি ফ্লোরিডার উপসাগরীয় উপকূলের মেক্সিকো সৈকত উত্তর-পশ্চিমে ভূমিধ্বনি তৈরি করে এবং ১০০ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে বড় ঝড় হিসেবে আঘাত হানে।

বাঙালিনিউজ

ফ্লোরিডার মেক্সিকো বিচের কাছে গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে হারিকেনটি আঘাত হানে বলে জানায় এনএইচসি। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগেই ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ফ্লোরিডার কিছু কিছু অংশে ১৪ ফুট পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে এবং ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের কারণে তাৎক্ষণিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলেও আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবে গতকাল ১০ অক্টোবর বুধবার রাতের দিকে ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে। বাতাসের গতি নেমে যায় ঘণ্টায় ৯০ মাইলে।

এনএইচসির বুলেটিনে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকাগুলো অতিক্রমের সময় ঝড়টি আরও দুর্বল হয়ে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে এটি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হতে পারে। বৃহস্পতিবার রাতের দিকে ফের শক্তি অর্জন করে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে শুক্রবার এটি পূর্ব উপকূল ছেড়ে যেতে পারে।”

ঝড় মোকাবেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের আড়াই হাজার সদস্যকে মোতায়েন করার কথা আগের দিনই জানিয়েছিলেন ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট। একশ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারে শঙ্কার কথা জানিয়ে এর ‘অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতির’ ব্যাপারেও সতর্ক করে দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন যে, আলাবামায়ও টর্নেডোও আঘাত হানতে পারে। গত মাসে হারিকেন ফ্লোরেন্সে ভেসে যাওয়া ক্যারোলাইনাতেও ঝরাতে পারে তুমুল বৃষ্টি।

Print Friendly, PDF & Email