বাঙালিনিউজ
প্রতীকী ছবি।

বাঙালিনিউজ
ফরিদপুর প্রতিনিধি

আজ ০৪ আগস্ট ২০১৯ রোববার সকাল ১১টার দিকে, ফরিদপুরে ২ কিশোরীকে অপহরণ ও গণধর্ষণের দায়ে ৫ যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৩ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের হাকিম মো. আলমগীর কবীর এ রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কেউ আদালতে হাজির ছিলেন না। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- উজ্জ্বল খান (২৫), শুকুর আলী (২৬), মিরাজ শেখ (২৫), ইলিয়াস ব্যাপারী (২০) ও শফি মোল্লা (২৫)। তারা ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার আসামিরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হন। পরে তারা সবাই জামিন পান। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যন্ত আসামিরা নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতেন। তবে সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর, যুক্তিতর্ক পর্বে আসামিরা সবাই আত্মগোপন করেন। এ কারণে তাদের অনুপস্থিতিতে আজ এ রায় ঘোষণা করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকার পক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) স্বপন পাল মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিলে চরভদ্রাসন উপজেলার ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই স্কুল ছাত্রীকে আসামিরা অপহরণ করেন। এরপর পদ্মার চরের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে গণধর্ষণ করেন। ওই দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করেন তারা।

পরে কিশোরীদের পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই ৫ আসামি। চাঁদার টাকা না পেয়ে তারা ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় এক কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১১ জুন ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে ১টি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে ৫ জনকেই আসামি করে পুলিশ ২০১৬ সালের ২২ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

ফরিদপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পেশকার সাফায়েত হোসেন এ ব্যাপারে মিডিয়াকে জানান, অপহরণ, ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২টি অভিযোগ আনা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করেন।

অপরদিকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগটির বিচারকাজ ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। ওই অভিযোগে একই আসামিদের বিচার কার্যক্রম চলছে।

Print Friendly, PDF & Email