বাঙালিনিউজ
থাইল্যান্ডের রাজকন্যা রাজকুমারী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি দেশটির জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হচ্ছেন। ছবি: গার্ডিয়ান

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এবার লড়ছেন থাই রাজা প্রিন্স মাহা ওয়াজিরালংকর্ণের বড় বোন (৬৭)। থাই রাকসা চার্ট পার্টি থেকে তিনি পদে লড়বেন। আজ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সিনাওয়াত্রার মিত্রদের প্রতিষ্ঠিত দল থাই রাকসা পার্টির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার প্রার্থী হিসেবে ৬৭ বছর বয়সী রাজকুমারী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদির নিবন্ধন থাই রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। কারণ, ঐতিহ্যগতভাবে থাই রাজ পরিবারের সদস্যরা রাজনীতির বাইরে থাকেন। তাই থাই রাজকুমারীর প্রধানমন্ত্রী পদে জাতীয় নির্বাচনে লড়াইয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশটির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। থাইল্যান্ডে এই প্রথম কোনো রাজপরিবারের সদস্য রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের বড় মেয়ে।

১৯৭২ সালে এক মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে নিজের রাজকীয় পদবি হারান রাজকুমারী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি। বিবাহবিচ্ছেদের পর নব্বইয়ের দশকে তিনি থাইল্যান্ডে ফিরে আসেন। যদিও তার আনুষ্ঠানিক রাজকীয় পদবি তিনি ফিরে পাননি। তবে থাই জনগণ তাকে রাজকীয় সম্মানে ভূষিত করে আসছেন।

বাঙালিনিউজ

রাজকুমারী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি দীর্ঘদিন ধরে সিনাওয়াত্রার পরিবারের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। সিনাওয়াত্রার পরিবারের কোনো সদস্য এবারের নির্বাচনে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তার ছায়া রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে একটি প্রভাব থেকেই যাবে।

থাই নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনে দল জয়ী হলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার নাম দলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করতে হবে।

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল থাই রাকসা চার্ট পার্টির নেতা প্রিচপল পংপানিচ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের পার্টির বোর্ড রাজকুমারী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, তাঁর মতো একজন শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উপযুক্ত পছন্দ।

বাঙালিনিউজ

থাইল্যান্ডের প্রথা অনুযায়ী, রাজপরিবারের কোনো সদস্যের বিপক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে রাজকুমারী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি প্রার্থী হওয়ায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে ‘শঙ্কা’ দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ মার্চ থাইল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডে সামরিক অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ছোট বোন প্রধানমন্ত্রী উৎখাতের পর দেশটিতে এটিই হবে প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

বাঙালিনিউজ

এর আগে গত বছর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে থাই নির্বাচন কমিশন জানায়, সাধারণ নির্বাচন হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ওই সময়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং নতুন থাই রাজা হিসাবে মাহা ভাজিরালংকর্ণের অভিষেকের আগাম প্রস্তুতি একই সময়ে পড়ে যাওয়ার কথা জানায় সামরিক সরকার। ফলে চলতি বছর ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডে ২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন । তিনি পরের বছরই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নানা কারণে কয়েকবার নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে তাঁর জান্তা সরকার। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন । থাই সামরিক সরকারের প্রধান প্রিয়থ চান-ওচা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী সমর্থিত পালাং প্রাচারাট দলের হয়ে তিনিও প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হচ্ছেন।

২০১৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইনলাক সিনাওয়াত্রাকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান প্রিয়ত চান-ওচা। এবার রাজকুমারী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts