বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন তাদের অনেকেরই বিভিন্ন কারণে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করে দিয়েছিলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে সারা দেশে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল, তাদের প্রথম ১৬০ জনের আপিল শুনানি করে ৮০ জনের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের আর কোনো বাধা থাকল না।

আজ ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে আপিল শুনানির প্রথম দিন ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ৪টি আবেদনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের রায় স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করা হবে।

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ৮০ জনের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বিএনপির প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তারা সারা দেশে বাছাইয়ে বিএনপির ৫৫৫ জনের প্রার্থিতা বৈধতা পেয়েছিল। তাদের সঙ্গে আপিলজয়ী ৩৫ জন যোগ হওয়ায় আজ পর্যন্ত বিএপির বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯০ জনে।

নির্বাচন ভবনের একাদশ তলায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি চলে। ৫৪৩টি আপিল আবেদনের মধ্যে প্রথম দিন ১৬০টি আবেদনের ওপর শুনানি হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এই শুনানিতে বিচারকের আসনে ছিলেন।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, শুক্রবার আবেদনের ক্রমিক নম্বর অনুসারে ১৬১ থেকে ৩১০ এবং শনিবার ৩১১ থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আপিলের শুনানি হবে।

আজ শুনানি শেষে বিএনপির পার্থীদের অন্যতম আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়েছে কমিশন। এখন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর আমাদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি নির্ভর করছে।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার নামে এবার ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বাতিল করেন।

যে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গৃহীত হলো

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, বগুড়া-৭ বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, ঢাকা-১ বিএনপির খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২০ বিএনপির তমিজ উদ্দিন, জামালপুর-৪ বিএনপির ফরিদুল কবির তালুকদার, কিশোরগঞ্জ-২ বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান, ঝিনাইদহ-২ বিএনপির আব্দুল মজিদ।

পটুয়াখালী-১ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. সুমন সন্যামত, পটুয়াখালী-৩ বিএনপির মোহাম্মদ শাহজাহান, মাদারীপুর-১ জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ বিএনপির প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জয়পুরহাট-১ বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ বিএনপির প্রার্থী মো. হাসাদুল ইসলাম।

মানিকগঞ্জ-২ বিএনপি প্রার্থী, সিরাজগঞ্জ-৩ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আয়নুল হক, গাজীপুর-২ জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেসমীন নূর বেবী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল হেলাল, রংপুর-৪ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা সেলিম, হবিগঞ্জ-১ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী জোবায়ের আহমেদ।

ময়মনসিংহ-২ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিক, ময়মনসিংহ-৭ বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদিন। কুড়িগ্রাম-৩ বিএনপির প্রার্থী আব্দুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ গণফোরামের মো. মাহফুজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুছ আলী ও পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

Print Friendly, PDF & Email