বাঙালিনিউজ
পাকিস্তানে ফের হিন্দু নাবালিকাকে জোর করে ধর্মান্তরণের অভিযোগ উঠেছে

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

পাকিস্তানে ফের হিন্দু নাবালিকাকে জোর করে ধর্মান্তরণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ২৬ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে সিন্ধু প্রদেশের বাদিন জেলার ধানি বুকশ গ্রামে। অভিযোগে প্রকাশ, জোর করে বাড়িতে ঢুকে ১৬ বছর বয়সী ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী হরি রাম কিশোরী লাল। পর পর এ ভাবে ধর্মান্তরণের ঘটনায় কার্যত গোটা সিন্ধু প্রদেশেই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আনন্দবাজার পত্রিকা পুলিশ ও পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, গতকাল ২৬ মার্চ মঙ্গলবার ভোর রাত তিনটে নাগাদ চার যুবক ওই নাবালিকার বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। বাইরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখেছিল তারা। তাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে গাডি়তে তুলে নেয়। তার পর চম্পট দেয় ওই যুবকরা। ওই কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে পরে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

তবে গ্রামবাসীদের দাবি, চার যুবকের মধ্যে একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ওই নাবালিকার। তার সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তাঁদের আরও দাবি, নাবালিকা স্বেচ্ছায় মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। প্রণয়ের সম্পর্ক বা জোর করে ধর্মান্তরণ—পুলিশ যদিও কোনও তথ্যই নিশ্চিত করেনি।

পুলিশ অভিযোগ পেয়েই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। বাদিনের এসএসপি সর্দার হাসান নিয়াজিকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী হরি রাম কিশোরী লাল। ওই পরিবারের সুরক্ষায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি সিন্ধুর সংখ্যালঘু ডিরেক্টর মুস্তাক আহমের সুমরোকে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সাহায্যের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

কয়েক দিন আগে সিন্ধু প্রদেশেরই ঘোকতি এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নাবালিকা দুই বোনকে জোর করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করানো এবং জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাকিস্তানের দাবি ছিল, জোর করে নয়, স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে তারা। ওই ঘটনা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং পাক তথ্যমন্ত্রীর মধ্যে রীতিমতো টুইট যুদ্ধ হয়। সুষমার বক্তব্য ছিল, ‘স্বেচ্ছায় নয়, জোর করেই ধর্মান্তরণ করা হয়েছে দুই বোনকে। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও বিশ্বাস করবেন না যে ওই দুই নাবালিকা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।’

পরে ইমরানও দুই বোনের ধর্মান্তরণের অভিযোগের তদন্ত এবং তাঁদের উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার এই মামলাটি ওঠে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে। বিচারপতি দ্রুত ওই দুই কিশোরীকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ-প্রশাসনকে। সময়সীমা দেওয়া হয়েছে এক সপ্তাহ। তার মধ্যেই ওই দুই কিশোরীকে আদালতে হাজির করাতে হবে পুলিশকে। কিন্তু এত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও ফের প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটলো। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

Print Friendly, PDF & Email