বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে ‘বির্তকিত’ মন্তব্য করার অভিযোগে নড়াইলের একটি মানহানি মামলায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ ১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার এই আদেশ দেন।
আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, কায়সার কামাল ও সগির হোসেন লিয়ন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কামরুল ইসলাম খান।

নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ০৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তাঁর আইনজীবীরা হাইকোর্টে আসেন।

নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয় ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর। নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ওই মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা এবং জাতির জনকের গৌরবজনক ভূমিকা নিয়ে খালেদা জিয়া উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য দিয়ে মানহানি করেছেন।” ওই বক্তব্যের কারণে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে।

ওই বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।”

একাত্তরে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা নয়, ক্ষমতা চেয়েছিল, দাবি করে ওই সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “তিনি (জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি।”

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অর্থদণ্ড সহ পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর, চলতি বছর ২০১৮ সালের গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরানো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও, তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা থাকার কারণে খালেদা জিয়া আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না।

Print Friendly, PDF & Email