বাঙালিনিউজ
বামে নুসরাত এবং ডানে রুহুল আমিন (ফাইল ছবি)

বাঙালিনিউজ
ফেনী প্রতিনিধি

আজ ১৯ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রবার বিকেলে, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পিবিআই। মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে রুহুল আমিনকে আটক করা হয়েছে বলে পিবিআইর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছন। রুহুল আমিন সদ্য ভেঙে দেওয়া সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন।

জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারা জবানবন্দী দেওয়া আসামিরা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে রুহুল আমিনের অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলম তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগে প্রকাশ।

এ দিকে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি অংশ নেওয়া সহপাঠী কামরুন্নাহার ওরফে মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। আজ শুক্রবার দুপুরে পিবিআইয়ের একটি দল রিমান্ডে থাকা মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। অপর দিকে দুই আসামিকে রিমান্ড শেষে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে আজ বিকেলে হাজির করা হয়। এজাহারভুক্ত এই দুই আসামি হলেন জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপি।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের অনুগত কয়েকজন বোরকা পরা শিক্ষার্থী নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে নুসরাতকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ওই দিনই নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। শরীরে ৭৫ শতাংশের বেশি পোড়া নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীণ অবস্থায় নুসরাত মারা যায়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, আগুনে পুড়িয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নুসরাত হত্যা এবং অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে জেনেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্যদ বাতিল ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে চারজন অভিভাবক সদস্য, তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন শিক্ষানুরাগী, একজন দাতা সদস্য, অধ্যক্ষকে সদস্যসচিব এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সভাপতি করা হয়।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আক্তারুন্নেছা শিউলি পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের বিষয়টি মিডিয়াকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে থাকায় ঠিক কী কারণে কমিটি বাতিল করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।

Print Friendly, PDF & Email