বাঙালিনিউজ
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুর উপজেলায় বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে ১৪ জন যাত্রী নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আজ ২৫ আগস্ট ২০১৮ শনিবার বিকাল ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে উপজেলার কদিমচিলান এলাকায় ক্লিক মোড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ২টি শিশু রয়েছে।
জানা গেছে, নিহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় লেগুনার চালক মুঠোফোনে কথা বলছিল। দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানা, লালপুর থানা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের সময় লালপুরের কদিমচিলান ক্লিক মোড় এলাকায় সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে চ্যালেঞ্জার নামের নাটোরগামী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিকে থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনাটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে লেগুনার ১০ যাত্রী নিহত হন।

এলাকাবাসী জানায়, দুর্ঘটনার পরপর তারা লেগুনার চারজনসহ বাসের আহত আট যাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে বনপাড়া হাইওয়ে থানা, লালপুর থানা, নাটোর ও লালপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে আসে। আহতদের বড়াইগ্রামের বনপাড়া শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লেগুনার আরও চার যাত্রীর মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ১৩ জনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হচ্ছেন পাবনা জেলার মুলাডুলি গ্রামের মন্টু রোজারিওর স্ত্রী আদরী বিশ্বাস (৩৬), ছেলে প্রত্যয় বিশ্বাস (১২), মেয়ে স্বপ্না বিশ্বাস (১০), ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি গ্রামের সুবহান আলী (৭৫), লেগুনার চালক (ঠাকুরগাঁ জেলায় বাড়ি) আব্দুর রহিম (৩৫), নাটোরের বড়াইগ্রামের শাপলা বেগম (২০), শেফালি বেগম (৪০), রজুফা বেগম (৪৫), লজেলা বেগম (৬৫) রোকন আলী (২২) জামাইদিঘার লগেনা বেগম (৬৫), টাঙ্গাইল গোপালপুরের রোকন সেখ (২২) ও সোবহান। মরদেহগুলো বনপাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে।

লেগুনার বেঁচে যাওয়া একমাত্র যাত্রী নুরসেদ সর্দার (৭২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিডিয়াকে বলেন, ‘লেগুনাটি বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাসের লেগুনাস্টান্ট থেকে ছেড়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া যাচ্ছিল। লেগুনাটি ছাড়ার পর থেকে চালক এলোমেলো ভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় চালক মুঠোফোনে কথা বলছিল। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তে সবকিছু তছনছ হয়ে যায়।’ এ দুর্ঘটনায় নুরসেদ সর্দারের স্ত্রী লজেনাও মারা যান।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছে থাকা সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের কর্মী জাহের আলী মিডিয়াকে বলেন, দুর্ঘটনার সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ সড়কে বিকট শব্দ হয়। তারা সড়কে গিয়ে দেখেন হতাহতরা সড়কের ওপর পড়ে আছে। ওই সময় সড়কে অন্য কোন যানবাহন ছিল না।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক পলাতক। লেগুনার চালক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুন নূর বলেন, নিহতদের লাশ তাঁর থানায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে লেগুনাটির নিবন্ধন ও ফিটনেস ছিল না। বাসটি এ সড়কে নিয়মিত চলাচল করে।

নাটোর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজ্জাকুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এ দুর্ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রাজ্জাকুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামানকে প্রধান করে তিনসদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার এবং আহতদের জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email