বাঙালিনিউজ
নরসিংদীর শিবপুরে গত ০৬ জুন নিখোঁজের দুই দিন পর ০৮ জুন সাবিনা আক্তার (২১) নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে প্রেফতার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

বাঙালিনিউজ
নরসিংদী প্রতিনিধি

আজ ১২ জুন ২০১৯ বুধবার, নরসিংদীর শিবপুরে সাবিনা আক্তারকে (২১) হত্যার ঘটনায় সাইফুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় পরনের শার্ট খুলে তা দিয়ে সাবিনাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সাইফুল তাকে ধর্ষণ করে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। গত ০৬ জুন সোমবার এই নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সাবিনা নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর ৮ জুন শিবপুরের কাজীরচর গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সাবিনার লাশ উদ্ধারের মাত্র তিন দিনের মাথায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে র‌্যাব-১১। আজ ১২ জুন বুধবার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবে র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতকাল ১১ জুন মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল শিবপুরের কলেজ গেট এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে সাইফুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাড়ির একটি নর্দমা থেকে সাবিনার ভ্যানিটি ব্যাগ, বাথরুমের ভেতর থেকে সাবিনার মুঠোফোন ও শ্বাসরোধে হত্যায় ব্যবহৃত শার্টটি উদ্ধার করা হয়।

সাবিনাকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুলের বাড়ি শিবপুর উপজেলার দুলালপুরের খালপাড় গ্রামে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শাহিনুর বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করে সাইফুল। ৫ বছর ও ১০ মাস বয়সী দুই সন্তান আছে তার। অন্যদিকে নিহত সাবিনা একই উপজেলার মাছিমপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আফিয়া আক্তারের মেয়ে। মা-মেয়ে দু’জনেই একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করত।

র‌্যাব-১১ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সাবিনার মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে সাইফুল ইসলামকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিন মাস আগে সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় হয় সাবিনার। সাইফুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের তথ্য গোপন করে সাবিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর সূত্র ধরে সাবিনাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করে সে ব্যর্থ হয়। সাইফুল গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে সাবিনাকে বিয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে আনে।

র‌্যাব বলছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জানিয়েছে যে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ও সাবিনা বিয়ে করার জন্য গত ৬ জুন সোমবার বিকেলে একত্রিত হয়। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সাইফুলের এক চাচাতো বোনের বাড়ির উদ্দেশে তারা রওনা হয়।

পথে রাত নয়টার দিকে অটোরিকশা থেকে নেমে নির্জন স্থানে নিয়ে সাইফুল সাবিনার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করতে চায়। এতে সাবিনা বাধা দিলে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে সাইফুল। ওই সময় সাবিনা চিৎকার করতে থাকলে, সাইফুল তার পরনের শার্ট খুলে তা সাবিনার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে মৃত সাবিনাকে ধর্ষণ করে ফেলে যায় সাইফুল। সাবিনার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ নিজ বাড়িতে নিয়ে লুকিয়ে ফেলে সে। এরপর আত্মগোপন করে।

র‌্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন বলেন, নিখোঁজের দুই দিন পর ৮ জুন শিবপুরের কাজীরচর গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে সাবিনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের মাত্র তিন দিনের মাথায় এ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে।

নিহত সাবিনার মা আফিয়া আক্তার জানান, ৬ জুন বিকেলে এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সাবিনা। ওই বান্ধবীর বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে পাওয়া যায়নি। দুই দিন পর নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে মেয়ের লাশ শনাক্ত করা হয়। পরের দিন তিনি বাদী হয়ে শিবপুর থানায় মামলা করেন। আফিয়া আক্তার তার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

Print Friendly, PDF & Email