বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
বগুড়া প্রতিনিধি

গতকাল ১২ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার, বগুড়ার ধুনট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, কোহিনুর খাতুন নামে এক নারীকে (৪২) থানায় এবং পরে হাসপাতালে গিয়ে মারধরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আহত কোহিনুর ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এএসআই শাহানুর রহমান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে। তিনি ২০১০ সালে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে চাকরি করতেন। ওই সময় কোহিনুরের খাবারের দোকানে প্রতিদিন খাবার খেতেন শাহানুর রহমান। সেই সুবাদে কোহিনুরের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে এএসআই শাহানুর রহমান বগুড়া থেকে বদলি হয়ে ধুনট থানায় যোগদান করেন।

এ ব্যাপারে কোহিনুর খাতুন জানান, বগুড়া শহরে তার একটি খাবারের দোকান আছে। এএসআই শাহানুর তার দোকানে নিয়মিত খাবার খাওয়ার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে শাহানুর ৬০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু ফেরত দিচ্ছিলেন না। এর মধ্যেই তিনি ধুনট থানায় বদলি হন। দুই মাস আগে কোহিনুর পাওনা টাকা চেয়ে শাহানুরের কাছে উকিল নোটিশ পাঠান। সেই নোটিশে জবাব না দিয়ে তিনি কোহিনুরকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্ত আমি তার প্রস্তাবে রাজি হইনি। ফলে সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারপর থেকে সে আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিই। এ বিষয়টি জানার পর শাহানুর টাকা দেয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার সকালে কৌশলে থানায় ডেকে এনে আমাকে পিটিয়ে আহত করেছে।

জানা গেছে, আহত কোহিনুর ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও জনতার সামনে পেটাতে থাকেন শাহানুর। এ সময় স্থানীয় লোকজন কোহিনুর খাতুনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান উপস্থিত জনতার সামনেই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সে (কোহিনুর) আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অবশেষ ঝামেলা এড়াতে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আপসনামায় স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তারপরও বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে আমাকে মামলার ভয়ভীতি দেখালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়থাপ্পড় মেরেছি।

খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন ও গাজিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত কোহিনুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলে। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেনও এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছার কথা জানান। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে তিনি জানান। বলেন, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, শাহানুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশ সুপারের মৌখিক নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে এএসআই শাহানুরকে সাময়িক বরখাস্ত করে ধুনট থানা থেকে বগুড়া পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌ-বাজার এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর খাতুন। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোহিনুর তার বাবা জাবেদ আলীর বাড়িতে থাকেন। বগুড়া জজ কোর্টের সামনে খাবারের দোকানের আয় দিয়ে কোহিনুর সংসারের খরচ চালান। সংসারে তার দুই সন্তানও আছে।

Print Friendly, PDF & Email