বাঙালিনিউজ
গত কয়েক মাসে নাকি দূরত্ব বেড়েছে যুবরাজ চার্লসের বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটন ও ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগানের মধ্যে।

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

গত বছর ২০১৮ সালের মে মাসে মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করেছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি। এরপর ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লস ও সাবেক রাজবধূ ডায়ানার দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারি এবং তাদের স্ত্রী কেট মিডলটন ও মেগান মার্কেলকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা যায়। প্রায়ই প্রকাশ হয় তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মকাণ্ডের ছবিও।

আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হয়, দুই ছেলের বউকে নিয়ে সুখেই আছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। কিন্তু শোনা যাচ্ছে উল্টো খবর। গত কয়েক মাসে নাকি দূরত্ব বেড়েছে যুবরাজ চার্লসের বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটন ও ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগানের মধ্যে। রাজপরিবারের এই দুই বউ-এর সম্পর্কে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। এবারের ক্রিসমাসে তাদের বিরোধ নাকি আরও চরমে উঠেছে।

বড় বউ কেট নাকি অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে ব্যবহার করেই রাজপরিবারে জায়গা করে নিয়েছেন মেগান। আর কেট যে তাঁকে বেশ জোর গলায় সেকথা বলেছেন, তাও একরকম স্বীকার করে নিয়েছেন মেগান।

বাঙালিনিউজ

উল্লেখ্য, হ্যারির বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই রাজপরিবারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে রাজপ্রসাদ ছেড়ে অন্য জায়গায় সংসার পাতবেন হ্যারি ও মেগান। তখন থেকেই রাজপ্রাসাদে ফিসফাস শুরু হয়। হঠাৎ কী কারণে ছোট ছেলে প্রাসাদ ছাড়ছেন? এ নিয়ে চলতে থাকে নানা জল্পনা-কল্পনা।

শোনা যায়, অশ্লীল ছবিতে কাজ করেছেন হ্যারির স্ত্রী মার্কিন অভিনেত্রী মেগান। আর তাই রাজপরিবারের বহু সদস্যই হ্যারির সঙ্গে মেগানের বিয়ে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। সেসময় বড় ভাই উইলিয়ামের স্ত্রী কেটই হ্যারি ও মেগানের চারহাত এক করতে অনেক চেষ্টা করেছিলেন।

তবে বিয়ের পর থেকেই খুব একটা ভালো সময় কাটছিল না বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামসের স্ত্রী বড় রাজবধূ ডাচেস অব ক্যামব্রিজ কেট মিডলটনের সঙ্গে ছোট ভাই হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সর্বশেষ বিবাদের শুরু একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কেট মিডলটনের এক পরিচারিকার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন মার্কেল। তাতে ক্ষুব্ধ হন কেট।

বাঙালিনিউজ

পরে স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে কথা বলেন প্রিন্স হ্যারি। অন্যদিকে কেটের পক্ষ নেন স্বামী উইলিয়াম। দুই বধূ থেকে ঝগড়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজপরিবারে। বর্তমানে বেশ তিক্ততা চলছে। ডেইলি এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, ক্রিস্টোফার গেইড নামে ওই গৃহপরিচারিকাকে ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুত করেছেন প্রিন্স চার্লস ডিউক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, বেশ কিছু বিষয় নিয়েই বিবাদ চলছিল কেট মিডলটন ও মেগানের মধ্যে। এর মধ্যে রয়েছে মেগানের লাইফস্টাইল। তার কিছু চালচলন ব্রিটিশ রাজপরিবারের রীতি পরিপন্থী হওয়ায় তার ওপর অসন্তুষ্ট কেট।

আর এ কারণেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের রীতির সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে মেগানকে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছিলেন কেট। কিন্তু এ পরামর্শগুলো ভালোভাবে নেননি মেগান।

আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, সব বিষয়ে বেশি খবরদারি শুরু করেছিলেন মেগান। যেটা কেটের বিশেষ পছন্দ ছিল না। কেট ও উইলিয়ামের টিমের লোকজনকে ভোর পাঁচটা থেকে মেল করে এবং ফোন করে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন মেগান। একদিন নাকি কেট সরাসরি বলেই দিয়েছিলেন যে, তিনি ছাড়া তাঁর কর্মীদের সঙ্গে অন্য কেউ কথা বলুক এটা তিনি চান না।

দুই নাতি বউয়ের এই বিরোধের খবর পৌঁছেছে রাণি এলিজাবেথের কানেও। তিনি সরাসরি কথা না বললেও, সমস্যা মিটিয়ে নিতে বলেছেন দু’জনকেই। রাণী এলিজাবেথ বলে দিয়েছেন, কেট-মেগানের মধ্যে যতই দূরত্ব তৈরি হোক তা যেন জনসম্মুখে না দেখানো হয়।

বাঙালিনিউজ

কিন্তু মেগানের আচার-আচরণে কেট ক্ষুব্ধ। তিনি মনে করছেন কাজ ফুরিয়ে যাওয়ায় মেগান আর সম্মান দিচ্ছেন না। এক মার্কিন পত্রিকায় কেট ও মেগানের মধ্যে কাজিয়ার বিষয়টি ফাঁস হয়েছে। মেগান এই মুহূর্তে অন্তঃস্বত্তা। কেনিংগসটন রাজপ্রাসাদ থেকে জানানো হয়েছে মেগান তাঁর সন্তানের জন্ম ফ্রোগমোর কটেজেই দেবেন।

এসব নিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, খুব শিগগির আলাদা হয়ে যাচ্ছেন দুই ভাই। প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের লন্ডনের বাইরে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রথম সন্তানের বাবা-মা হতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাসেক্সের ডিউক প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। গত বছর অক্টোবরে ইংল্যান্ডের কেনসিংটন রাজপ্রাসাদ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গত বছরই মে মাসে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পঞ্চম উত্তরসূরি ৩৪ বছর বয়সে প্রিন্স হ্যারি ৩৭ বছর বয়সী সাবেক মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করেন।

তারা চলতি বছর ২০১৯ সালের প্রথমার্ধেই নিজেদের প্রথম সন্তানের মুখ দেখতে পারবেন বলে আশা করছেন। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাতি হ্যারি ও নাতি বউ মেগানের সন্তান হবে ব্রিটিশ সিংহাসনের সপ্তম উত্তরাধিকারী।

Print Friendly, PDF & Email