বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোববার, কিশোরগঞ্জের একটি আদালত দু’জন কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যসহ দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এই মামলায় অপর ৬ জন আসামীকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক কিরন শংকর হালদার আজ বিকেলে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করেছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হাট ব্যারেঙ্গা গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে ও কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনের কনস্টেবল মনিরুজ্জামান ওরফে হলুদ ওরফে সুজন (৩৬) এবং ঝালকাঠির নলছিটি আমিরাবাদ কাওখিরা গ্রামের ফজলে আলী হাওলাদারের ছেলে শামীম হালদার ওরফে জহির (৩৮)। আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন তারা।

এই মামলায় চার বছর করে যে ৬ জন আসামিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত, তারা হলেন-দিলবর হোসেন (২২), মো. মোস্তফা মীর ওরফে রানা (৩৫), আবুল হোসেন (৩৮), বাবুল মিয়া (৪৫), জয়নাল আবেদীন (২৯) ও কবির উদ্দিন (২৫)।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার আবু বাক্কারের মেয়ে কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী আফরোজা আক্তার সুমির সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল মনিরুজ্জামান হলুদের। তার মাধ্যমে জহিরের প্রেমের ফাঁদে পড়েন সুমির বান্ধবী একই কলেজের শিক্ষার্থী শহরের তারপাশা এলাকার নূরুন্নবীর মেয়ে আফরোজা আক্তার উর্মি।

বাঙালিনিউজ

২০০৮ সালের ১৬ জুলাই জমি লিখে দিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমি ও উর্মিকে কিশোরগঞ্জ থেকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যান কনস্টেবল মনিরুজ্জামান ও জহির। কিন্তু ওইদিন বিকেলে ঢাকার কারওয়ানবাজারে অবস্থিত ‘ওয়েস্টার্ন গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল’ আবাসিক হোটেলের দু’টি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে কলেজছাত্রী সুমি ও উর্মিকে হত্যা করেন মনিরুজ্জামান ও জহির।

ওই দুই কলেজছাত্রীকে হত্যার পর হোটেল কক্ষে তালা দিয়ে পালিয়ে যান মনিরুজ্জামান ও জহির। পরে হোটেলের ৬ জন কর্মচারীর সবজির টুকরিতে করে নিহত সুমি ও উর্মির মরদেহ কাওরানবাজার রেললাইনের কালভার্টের নিচে এবং তেজগাঁও রেলস্টেশনের বাম পাশের ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আফরোজা আক্তার সুমির বাবা আবু বাক্কার বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতদের আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এই অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. আমজাদ হোসেন তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল ৮ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আজ এই মামলায় বিচারের রায় ঘোষণার পর নিহত দুই কলেজছাত্রী সুমি ও উর্মির স্বজনরা তথা বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email