বাঙালিনিউজ
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আজ ২৫ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ২৫ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ আগের তুলনায় অনেক কমেছে। সম্প্রতি চেকপোস্টে তল্লাশির নামে এক তরুণীকে হয়রানির ঘটনায় তদন্ত অনুযায়ী উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ সদস্যদের আচরণ কেমন হবে, সে ব্যাপারে আমরা সচেতন রয়েছি। আগে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যাপকহারে খারাপ আচরণের অভিযোগ আসতো, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এখন তার ৫ ভাগ অভিযোগও আসে না। আমাদের কোনো সদস্য অপেশাদার আচরণ করলে, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিই।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গত ২২ অক্টোবর সোমবার গভীর রাতে চেকপোস্টে তল্লাশিকালে সিএনজিতে থাকা এক তরুণীর সঙ্গে পুলিশের খারাপ আচরণের ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই ভিডিওটি যিনি আপলোড করেছেন, তিনিও পুলিশেরই সদস্য। তিনি ভেবেছিলেন ওই ভিডিওটা প্রকাশ করলে তার হয়তো সুনাম হবে। কিন্তু তিনি যে অপেশাদার আচরণ করেছেন তা বোঝার ক্ষমতা তার নেই।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু এক্ষেত্রে নয়, আগামীতেও যদি কোনো পুলিশ সদস্য নাগরিকের সঙ্গে পেশাদার আচরণের বাইরে খারাপ আচরণ করেন, পুলিশের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও কঠোর।

কমিশনার বলেন, আমরা ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে খারাপ আচরণ কমিয়ে এনেছি। আমরা শুধু মোটিভেশন কিংবা প্রশিক্ষণই দেই না, এ ধরনের অপেশাদার আচরণ যেসব পুলিশ সদস্য করেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিই। আগে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ পেতাম, এখন মাসেও একটা পাই না।

৫ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পালিত হয় ট্রাফিক সপ্তাহ। ট্রাফিক সপ্তাহের ১০ দিনে সারা দেশে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১ লাখ ৮০ হাজার ২৪৯ টি। জরিমানা আদায় করা হয় ৭ কোটি ৮ লাখ ১৪ হাজার ৩৭৫ টাকা। এ সময় ৭৪ হাজার ২২৪ জন চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আটক করা হয়েছে ৫ হাজার ৪১৮টি যানবাহন। মামলাগুলোর অধিকাংশ হয়েছে রাজধানীতে। জরিমানার তিন-চতুর্থাংশ আদায় হয়েছে রাজধানীতে। মামলা ও জরিমানার পাশাপাশি যানবাহনের চালক ও পথচারীদের উদ্দেশে প্রচার করা হয় সচেতনতামূলক বার্তা। আজ থেকে সড়কে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে আবারও শুরু হয়েছে ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ।

নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ নেই। আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্ন হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা যতটুকু বলি তার শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। এই মহানগর পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কোনো ধরনের অপতৎপরতার চেষ্টা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email