বাঙালিনিউজ
নিহত দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব। ফাইল ফটো

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব বাস চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাবালে নূর পরিবহনের মালিক শাহাদাত হোসেনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। আজ ২৫ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস এই অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল মিডিয়াকে বলেন, এ মামলায় আগামী ০১ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। আসামিরা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

আসামিরা হলেন, জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং দুই চালকের দুই সহকারী এনায়েত হোসেন ও কাজী আসাদ। শাহাদাত হোসেনের মালিকানাধীন বাসটির চাপায় ওই দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, চালক ও চালকের সহকারীরা বেশি যাত্রী ওঠানোর লোভে যাত্রীদের কথা না শুনে, তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে, জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কের ঢালের সামনে রাস্তা ব্লক করে দাঁড়ায়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪-১৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর বাস উঠিয়ে দেন চালক মাসুম বিল্লাহ। ফলে ঘটনাস্থলেই ২ জন শিক্ষার্থী নিহত হন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সেদিন বাস দুটি দুই থেকে তিন বার ওভার ট্রেকিং করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসনের বিপরীত পাশের জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কের ঢালের সামনের রাস্তার ওপর জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের রেষারেষির ফলে একপর্যায়ে একটি বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে পড়ে। ওই ঘটনায় ২ জন শিক্ষার্থী দিয়া ও রাজীব নিহত হওয়া ছাড়াও ৯ জন আহত হন।

নিহত ওই ২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও অপরজন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)। এই ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

পরে অভিযান চালিয়ে জাবালে নূরের তিন বাসের তিন চালক এবং তাঁদের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গত ০১ আগস্ট র‍্যাবের পক্ষ থেকে জাবালে নূরের একটি বাসের মালিক শাহাদাত হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তারের খবর জানানো হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, জাবালে নূরের যে তিনটি বাসের রেষারেষিতে এই ঘটনা ঘটে, সেগুলোর নিবন্ধন নম্বর হলো ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৬৫৭ ও ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চাপায় ওই দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এই বাসটি চালাচ্ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৬৫৭ নম্বর বাসের চালক ছিলেন জুবায়ের। আর ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০ নম্বরধারী বাসটির চালক ছিলেন সোহাগ।

Print Friendly, PDF & Email