বাঙালিনিউজ
সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীকাল ১৫ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার, জাতীয় শোকদিবস। এই দিবসে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও বনানী কবরস্থান এলাকায় নিশ্ছিদ্র সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শোকদিবসের নানা অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে পুরো ঢাকা মহানগরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।

আজ ১৪ আগস্ট ২০১৯ বুধবার, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আগামীকাল বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন শেণী-পেশার মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সকালে সবার আগে মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে টুঙ্গীপাড়া যাবেন।

তিনি বলেন, এ শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে ডিএমপি ৩২ নম্বর ও বনানী কবরস্থান ঘিরে নিশ্ছিদ্র সুসমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। ডিএমপির ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে পুরো এলাকা সুইপিং করা হবে। ধানমন্ডি লেকেও পুলিশের নৌ-প্রহরা থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ৩২ নম্বরের চারপাশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেড থাকবে। যথাযথ তল্লাশির মধ্য দিয়ে ব্যারিকেড অতিক্রম করে জনাসাধারণকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রবেশের সময় গেটে পুনরায় আর্চওয়ের মাধ্যমে যথাযথ তল্লাশির পর সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও ভিভিআইপিরা ধানমন্ডি ২৭ নম্বর হয়ে পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবেশ করবেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পূর্ব পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাবেন। তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৩২ নম্বর এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মূক্ত করে দেওয়া হবে। জনসাধারণ সবাই রাসেল স্কয়ার অর্থাৎ পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিম পাশ দিয়ে বের হয়ে যাবেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় অযথা ভিড় না করে যত দ্রুত সম্ভব স্থান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ চলে এলে সবাই কলাবাগান মাঠে অপেক্ষা করবেন। ভিভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সবাইকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

এছাড়া, মহানগরীজুড়ে অজস্র কর্মসূচি ও কাঙালিভোজের আয়োজন হবে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, শোকদিবসের সব আয়োজন যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে নিরাপত্তার স্বার্থে মহানগরীজুড়ে সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ডিএমপি।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে শোকাবহ ও বেদনার দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে, বাঙালি জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশি-বিদেশি পরাজিত শক্তি ও তাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ দোসররা।

বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম এবং বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের প্রতি বছর বাঙালি যথাযথ মর্যদা ও বিনম্র শ্রদ্ধা, ভক্তি এবং পরম মমতা ও অপরিমেয় ভালোবাসায় স্মরণ করে। জাতির জীবনে সবচেয়ে শোকাবহ এই দিবসটি জাতীয় শোকদিবস হিসেবে পালনের জন্য এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নানা পেশাজীবী সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Print Friendly, PDF & Email