বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করতে আসা প্রত্যেককে তিন ধাপে তল্লাশি শেষে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। জাতীয় ঈদগাহে নামাজের জন্য জায়নামাজ ও প্রয়োজনে ছাতা ছাড়া কিছুই সঙ্গে আনা যাবে না।

আজ ০৩ জুন ২০১৯ সোমবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, শিক্ষাভবন, মৎস্যভবন ও প্রেসক্লাবের সামনে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে সবাইকে তল্লাশির মাধ্যমে জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। এ এলাকায় কেউ গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এর পরের ধাপে মূল গেইটে এবং ঈদগাহের ভিআইপি জোনের আগে আরো দুই দফা আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে।

তিনি বলেন, সবাইকে তল্লাশি করা হবে, এজন্য যদি গেইটে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হলেও সবাইকে ধৈর্য্য সহকারে পুলিশকে সহযোগিত করার আহ্বান রইলো। প্রয়োজনে মুসল্লিদের সঙ্গে আনা জায়নামাজ কিংবা ছাতা খুলেও পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি করবেন।

পুলিশের পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের সদস্যদের সমন্বয়ে ঈদগাহের চতুর্পাশে বহিবেষ্টনী গড়ে তোলার কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে পুরো ঢাকা শহরে চেকপোস্ট জোরদার রয়েছে। অফিসিয়াল পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। ঈদকে ঘিরে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাই কারো ভীত হওয়ার কারণ নেই।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঈদের সময় কিংবা ঈদ জামাতে সুস্পষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। এরপরও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যথেষ্ট সতর্ক থাকার কারণ রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ডিএমপি’র ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে ঈদগাহ মাঠ সুইপিং করা হবে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। জাতীয় ঈদগাহ এবং বায়তুল মোকাররমে স্থাপিত অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো রিয়েল টাইম মনিটরিং করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম ছাড়াও নগরজুড়ে সকল ঈদের জামাতে সাধ্যমতো নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সকল বড় ঈদ জামাতে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। বাকি সকল জামাতে ফিজিক্যালি তল্লাশি করা হবে।

তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঢাকাজুড়ে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছিলো, রমজানে প্রথম পর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। রমজানে এখনো বলার মতো রাজধানীতে কোন অপরাধ সংগঠিত হয়নি। আশা করছি ঈদের নামাজও হবে শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর। ঈদের পরের সময়েও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে।

নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, যে কোনও সমস্যা-প্রয়োজনে পুলিশকে জানাবেন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে ঈদগাহে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং ৯৯৯ এ জানানোর অনুরোধ রইলো। ঈদে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক স্তরে সুদৃঢ় ও সমন্বিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

গুলিস্তান ও মালিবাগে পুলিশের উপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এটি এখনো তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সুযোগ নেই। আমরা ঘটনাস্থল থেকে ফিজিক্যালি তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। আশা করছি শীঘ্রই হামলার কারণ এবং কারা হামলা চালিয়েছে বের হয়ে আসবে।

এর আগে কমিশনার পুরো ঈদগাহ ময়দান ঘুরে দেখেন এবং ডিএমপির ডগ স্কোয়াড আয়োজিত বিশেষ মহড়া পরিদর্শন করেন।

Print Friendly, PDF & Email