বাঙালিনিউজ
বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাঙালিনিউজ

আগামীকাল ১০ জুন ২০১৯ সোমবার বিকেল চারটায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হবেন। রাজধানী ঢাকার উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং ও সমন্বয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী মিডিয়াকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মসূচি না থাকা এবং বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যদের সংসদে যোগদান, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ এবং জোটের আরেক শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর জোট ছাড়ার আলটিমেটামের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। ফলে কার্যত থমকে গেছে ফ্রন্টের যাবতীয় কর্মকাণ্ড।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এ বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের শরিকদের মধ্যে নানা ইস্যুতে সৃষ্ট সংকট, দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আলোচনা হতে পারে নতুন কর্মসূচি নিয়েও।

এ ব্যাপারে গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামীম মিডিয়াকে জানান, এটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে। জোটের শীর্ষ নেতারাই শুধু উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি এবং গণফোরামের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে ক্ষোভ ও নানা আলোচনা-সমালোচনাসহ বিভিন্ন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও জোট সমুন্নত রাখার জন্য আগামীকাল জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করবেন।

ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষোভ প্রশমনের জন্য কয়েক দিন ধরেই বৈঠকের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। ঈদের পরদিন গত ০৬ জুন বৃহস্পতিবার ঈদ–পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে জোটের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট ভাঙনের পথে না। আগামী ১২ জুন সবাই মিলে বৈঠক করা হবে। তিনি বলেন, কৌশল ঠিক করে মাঠে নেমে ঐক্যকে আরও সুসংহত করা হবে। তবে বৈঠকটি ১২ জুন হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামীকাল ১০ জুন হবে বলে জানানো হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ বৈঠক হয় গত ২৪ এপ্রিল, ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে। সেদিন ফ্রন্ট নেতারা কিছু কর্মসূচিও ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু শপথের বিপক্ষে থেকেও ২৯ এপ্রিল বিএনপির পাঁচজন সাংসদ শপথ নেন। গণফোরামের দুজন সদস্য এর আগে শপথ নেওয়ায় জোটের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তারা। বিএনপির শীর্ষ নেতারাও তখন গণফোরামের দুজনকে নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। এ ছাড়া মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণফোরামের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রোজার মাসে বিভিন্ন ইফতার অনুষ্ঠানে নেতারা একসঙ্গে হওয়া ছাড়া জোটের কোনো বৈঠক হয়নি।

বিএনপির সাংসদদের শপথ নেওয়ার পর ঐক্যফ্রন্টের বাকি শরিকদের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়। জোটের নেতাদের অভিযোগ, কাউকে না জানিয়ে, কোনো আলোচনা না করেই তাঁরা শপথের সিদ্ধান্ত নেন। জোটের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শাহবাগে একটি গণজমায়েতের কথা থাকলে সেটা স্থগিত হয়ে যায়। এ ছাড়া জোটভিত্তিক আর কোনো কর্মসূচিও হয়নি।

শপথ নেওয়ার সমালোচনা করে ও ঐক্যফ্রন্ট পরিচালনায় দুর্বলতা আছে জানিয়ে জোটের অন্যতম শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী গত ৯ মে সংবাদ সম্মেলন করে জোট ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। তিনি বলেন, জোটের মধ্যে বিদ্যমান অসংগতি দূর না হলে তিনি ৮ জুন জোট ছেড়ে দেবেন। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি জোট ছাড়ার কোনো ঘোষণা দেননি।

জোটের অসংগতি দূর করার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গত ১০ মে মিডিয়াকে বলেছিলেন, সংকট দূর করার জন্য বিএনপিকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন এবং বিএনপির অসংগতি দূর করতে এগিয়ে আসা উচিত।

ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে রাজনীতিতে নানামুখী সমালোচনার মধ্যে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন সম্প্রতি কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলোচনা করেছেন আ স ম রবের সঙ্গে।

Print Friendly, PDF & Email