বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

ভারতে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নরেন্দ্র মোদী। জনপ্রিয়তার এই হিসাবে মোদীর পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। তারপর তৃতীয় অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

I-PAC নামের একটি সংস্থা ভারতে আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে ‘ন্যাশনাল পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ শীর্ষক এক বিশেষ সমীক্ষা চালু করেছে। দেশের মানুষ কাকে নেতা হিসেবে দেখতে চাইছে, কোনও কোনও অ্যাজেন্ডাকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে, সে ব্যাপারে একটা চৌম্বক ধারণা নৌয়ার জন্যই সংস্থাটি এই জনমত জরিপের উদ্যোগ নিয়েছে। সমীক্ষা তালিকায় নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একগুচ্ছ নেতা-নেত্রী রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যে সমীক্ষা রিপোর্ট তাতে দেখা যাচ্ছে, সবার চেয়ে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই।

সমীক্ষার রিপোর্ট শনিবার পর্যন্ত
গত ২৯ জুলাই ২০১৮ থেকে শুরু হয়েছে ওই সমীক্ষা। এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ আর ২৮৩টি সংস্থা। এখনও পর্যন্ত যে সমীক্ষা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে-শাসক দল বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী পেয়েছেন ৪৮ শতাংশেরও বেশি ভোট। তার ঠিক পরেই রয়েছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের প্রধান রাহুল গান্ধী। তবে অনেক পিছনে। রাহুলের প্রাপ্ত ভোট ১৫ শতাংশ। আর ৮.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আমআদমী পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তারপর চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪.৩ শতাংশ। নীতিশ কুমার রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪.২ শতাংশ।

শুধু নেতা বা নেত্রীদের মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী বাছাই নয়, সাধারণ মানুষ ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন কোন এজেন্ডাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটাও সমীক্ষায় বের করে আনা হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের জন্য ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী যে ১৮টি পথের দিশা দিয়েছিলেন, সেগুলোকে অ্যাজেন্ডা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমতার মতো বিষয়গুলো রয়েছে সেখানে।

আজ ০৪ আগস্ট শনিবার পর্যন্ত সমীক্ষার হিসেবে কৃষক উন্নয়নই সবার আগে স্থান পেয়েছে। এরপরে রয়েছে ছাত্র উন্নয়ন অর্থাৎ উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা। ফলে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী আগেই জানতে পারছেন, জনগণের মন পেতে হলে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে চাইলে কোন কোন অ্যাজেন্ডাকে সামনে নিয়ে এগোতে হবে তাঁকে।

ভারতের জনগণ সত্যিকার অর্থে শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় দেবে তা জানতে হলে অবশ্য আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে ইতিমধ্যেই সমীক্ষায় উঠে আসছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই অ্যাজেন্ডার প্রভাব আদতে পড়বে কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে জনপ্রিয়তার রায়ে আপাতত নিশ্চিন্তে এগিয়ে থাকছেন নরেন্দ্র মোদী।

তবে লোকসভা নির্বাচনের আগে হয়ত অনেক হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে। ভোটের অংকে অনেক ওলোট-পালটও হবে। ভোটের মুহূর্তে জনমতে নানামুখী পরিবর্তনও আসতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর যোগ-বিয়োগের খেলায়। তাই সঠিক জনমতের প্রতিফলন পেতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

তবে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে ভারতের জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলোর জোটের রাজনীতির ম্যাজিক লড়াই। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশে আসন্ন ভোটযুদ্ধের ওয়ার্মআপে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন রাজনৈতিক নেতারা। বিভিন্ন কায়দায় চলছে প্রচার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল তথা বিজেপিকে চাপে ফেলতে জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বিজেপি বিরোধী দলগুলো। চলছে দফায় দফায় বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি নাম উঠে আসছে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। সূত্র: কলকাতা ২৪x৭.কম।

Print Friendly, PDF & Email