বাঙালিনিউজ
দুটো হেড আর একটা পেনাল্টিতে হ্যাটট্রিক করে জুভেন্টাসের জয় নিশ্চিত করে সতীর্থসহ ভক্ত ও সমর্থকদের বিজয়ের আনন্দে চোখের জলে ভাসান ৩৪ বছর বয়সী ফুটবল সুপারস্টার রোনালদো।

বাঙালি নিউজ
ক্রীড়া ডেস্ক

পর্তুগিজ ফুটবল সুপারস্টার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর স্মরণীয় হ্যাট্রিকে ে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে কোয়াটার ফাইনালে উঠলো জুভেন্টাস। ইতালির তুরিনে ঘরের মাঠে শেষ আটে উঠার লড়াইয়ে জুভেন্টাসকে দারুণ এক ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয় উপহার দিলেন রোনালদো

ফলে গতকাল ১২ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে ৩-০ গোলে জিতলো । আর দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করলো এই ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। এর আগে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছিল স্পেনের দল আতলেতিকো মাদ্রিদ।

গতকাল মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদের জালে প্রথমার্ধে দারুণ এক হেডে বল জড়িয়ে দেন রোনালদো। ফলে ম্যাচের প্রথম ভাগে ১-০ গোলে জুভেন্টাসকে এগিয়ে নেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফের প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে রোনালদো ২-০ গোলে জুভেন্টাসকে এগিয়ে নিলেন।

এতে দলের জয়ের আশা আরো বাড়িয়ে দিলেন রোনালদো। আর ম্যাচের শেষ দিকে তৃতীয় গোল করে জুভেন্টাসের জয় নিশ্চিত করেন ফুটবল সুপারস্টার রোনালদো। ফলে পর্তুগিজ তারকার অসাধারণ হ্যাটট্রিকে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকেট পেল জুভেন্টাস।

পুরো ম্যাচে বল দখলে রাখে জুভেন্টাস। আক্রমণেও আধিপত্য ছিল তাদের। জুভেন্টাস প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের উদ্দেশ্যে মোট ১৬টি শট নেয়। এর মধ্যে ৪টি লক্ষ্যে আঘাত করে। অন্যদিকে ঘর সামলাতে ব্যস্ত আতলেতিকো মাদ্রিদ প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের উদ্দেশ্যে ৫টি শট নিয়েছে। কিন্তু একটিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।

গতকাল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া জুভেন্টাস জর্জো কিয়েল্লিনি ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই জটলার মধ্যে বল পেয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের জালে জড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে শট নিতে গিয়ে রোনালদোর পা গোলরক্ষকের হাতে আঘাত করে। ফলে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি।

গোল না হলেও প্রতিপক্ষকে একচেটিয়া চাপে ধরে জুভেন্টাস। ম্যাচের ২৭ মিনিটে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো। বাঁ দিক থেকে ফেদেরিকো বের্নারদেস্কির দূরের পোস্টে বাড়ানো ক্রসে লাফিয়ে নেওয়া হেডে বল জালে পাঠান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের ৩১ মিনিটে ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড বের্নারদেস্কির ফ্রি-কিকে বল ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় অতিথিরা। কিছুক্ষণ পর তার বাইসাইকেল কিকও হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। বিরতির ঠিক আগে রোনালদোর হেডও পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে আরেকটি দারুণ হেডে দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে নেন রোনালদো। তার লাফিয়ে নেওয়া হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়েছিলেন ইয়ান ওবলাক। কিন্তু তার আগেই বল গোললাইন পেরিয়ে যায়। গোললাইন প্রযুক্তির সাহায্যে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে আগের ম্যাচে ২-০ গোলে জেতা আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইনে ২-২ গোলের সমতায় আসে জুভেন্টাস।

নির্ধারিত সময় শেষের ১০ মিনিট আগে মানজুকিচকে বসিয়ে মোইজে কিনকে নামান আল্লেগ্রি। মাঠে নামার দুই মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের ভুলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ ইতালিয়ান এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু তার কোনাকুনি শট গোলপোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

তবে খানিক পরেই দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান রোনালদো। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে সফল স্পট কিকে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজ দলের পার্থক্য গড়ে দেন এ সময়ের অন্যতম ফুটবল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা বের্নারদেস্কিকে পেছন থেকে আনহেল কোররেয়া ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় জুভেন্টাস।

স্পেনের মাটিতে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আতলেতিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল জুভেন্টাস। সেদিন নানা বিদ্রুপের মুখে পড়েছিলেন রোনালদো। বিদ্রুপ তাকে এতটাই চটিয়ে দিয়েছিল, যে হাতের পাঁচ আঙুল দেখিয়ে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ইঙ্গিত করে মিক্স জোন ছেড়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা।

তাই গতকাল তুরিনে নিজেদের মাঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে প্রচণ্ড টেনশনে ছিলেন রোনালদো। কিন্তু ম্যাচের ২৭, ৪৯ ও ৮৬ মিনিটে একাই তিন গোল করে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে আতলেতিকোকে হারিয়ে দেওয়ার পর, স্বস্তি ফেরে রোনালদোর। কারণ, এতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে উঠে যায় জুভেন্টাস।

দুটো হেড আর একটা পেনাল্টিতে হ্যাটট্রিক করে জুভেন্টাসের জয় নিশ্চিত করে সতীর্থসহ ভক্ত ও সমর্থকদের বিজয়ের আনন্দে চোখের জলে ভাসান ৩৪ বছর বয়সী ফুটবল সুপারস্টার রোনালদো।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরে এই নিয়ে ৪ গোল করলেন তিনি। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তার মোট গোল হলো ১২৪। আর আতলেতিকোর বিপক্ষে এই নিয়ে ৩২ ম্যাচে ২৫টি গোল করলেন রোনালদো। আগের ২২টি গোল করেছিলেন সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে।

ফিলিপ্পো ইনজাগি ও আলেস্সান্দ্রো দেল পিয়েরোর পর জুভেন্টাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদো। ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টা সবচেয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চিত্রনাট্য লেখার কাজটা বোঝ হয় গতকাল থেকেই শুরু করলেন রোনালদো৷ বড় কোনো কারণ না থাকলে হয়তো জুভেন্টাসেই কেরিয়ারে ইতি টানতে চান পর্তুগিজ ফুটবল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts