বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

আজ ০৮ জুন ২০১৯ শনিবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের এক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূকে (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় গতকাল ০৭ জুন শুক্রবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ওই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন। মামলায় গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখের আহমেদ সিদ্দিকী আজ দুপুরে তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যটি মিডিয়াকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই গৃহবধূর শরীরে আগুন দেওয়া হয় গত ১ জুন। পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরেছে গতকাল ৭ জুন। ঘটনা জানার পরই তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলেছেন।

অগ্নিদগ্ধ ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তার স্বামী মো. শরীফ মিয়া তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আর তার শ্বশুর শাহাব উদ্দিন ও শাশুড়ি হাছিনা খাতুন ওই সময় তাকে চেপে ধরে রাখেন।

অগ্নিদগ্ধ ওই নারীর বাবা মিডিয়াকে জানান, গত কার্তিক মাসে পসরিষা ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে শরীফ মিয়ার সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ জামাইকে ৭৫ হাজার টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়েছেন। কিন্তু শরীফ আরও যৌতুক আদায়ের জন্য শিরিনাকে নির্যাতন করত।

ওই অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর বাবা বলেন, ৬ জুন মাছিমপুর গ্রাম থেকে তিনি একটি ফোন পান। সেই ফোনে তার মেয়ের শরীর গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়ার খবর জানতে পারেন। সেদিনই তিনি বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। গিয়ে দেখেন, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মেয়েকে কলাপাতায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় মেয়েকে তিনি নিজের বাড়িতে নিতে চাইলে মেয়ের শাশুড়ি হাছিনা খাতুন, শ্বশুর শাহাব উদ্দিন ও জামাই শরীফ মিয়া বাধা দেন। তারা মেয়ের চিকিৎসা করাবেন বলে জানান।

অগ্নিদদ্ধ মেয়ের বাবা জানান, পরে তিনি মেয়ের সঙ্গে একান্তে কথা বলে জানতে পারেন, কারা তারা শরীরে আগুন দিয়েছে। মেয়ের বিপদ আরও বাড়তে পারে ভেবে এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। পরে এলাকা থেকে আরও লোকজন নিয়ে তিনি মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সেখান থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূ তার ছোট ভাইয়ের মুঠোফোনে ক্ষীণ কণ্ঠে মিডিয়াকে বলেন, আমার স্বামী শরীফ তার বাবা-মায়ের সহায়তায় আমার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

গতকাল বিকেলে মাছিমপুর গ্রামে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর শাশুড়ি হাছিনা খাতুনের কাছে তার পুত্রবধূর শরীর কীভাবে আগুনে পুড়েছে সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, শিরিনা নিজেই নিজের শরীরে আগুন ধরিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই সময় তিনি (শাশুড়ি) বাড়িতে ছিলেন না। এ সময় বাড়িতে পুলিশ ঢুকলে হাছিনা খাতুন পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন।

শিরিনার দেবর মিজানকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গভীর রাতে মো. ফারুক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফারুক অগ্নিদগ্ধ শিরিনাকে ‘হোমিও’ চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। মামলায় অভিযুক্ত শ্বশুর শাহাব উদ্দিন ও গৃহবধূর স্বামী শরীফ মিয়া পলাতক।

Print Friendly, PDF & Email