বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

ভারতে ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে এখন পর্যন্ত রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। কিন্তু কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি রাহুলের পদত্যাগের বিষয়টি মানতে রাজি নয়। কিন্তু দলের অনেকে মনে করেন, ওয়ার্কিং কমিটি কোনও প্রস্তাব পাশ করলেও কংগ্রেসের সভাপতির অধিকার আছে সেটিকে না মানার।

গত কয়েক সপ্তাহে রাহুলকে সভাপতি পদে থাকার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। কিন্তু মানছেন না তিনি। অগত্যা এখন রাহুলের বিকল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

একজন শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো রাহুলকেই বুঝিয়ে সভাপতি পদে রাখা। কিন্তু যদি তিনি একান্তই না মানেন, তা হলেও গান্ধী পরিবারকে বাদ দিয়ে কোনও বিকল্প খুঁজতে চাই না। কিন্তু ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল বলেছেন, আমি সভাপতি থাকব না বলে আমার বোনের (প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা) কথাও ভাববেন না। গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে নতুন সভাপতি হিসেবে খুঁজুন। রাহুলের এই অনড় মনোভাব দেখেই বিপাকে পড়েছেন কংগ্রেস নেতারা।

তবে রাহুল আপত্তি জানালেও, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁদের সঙ্গে দফায় দফায় গত কয়েক দিন ধরে আলোচনা করেছেন সোনিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব আহমেদ পটেলসহ কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ, এ কে অ্যান্টনি, মল্লিকার্জুন খড়্গ প্রমুখ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে নেতারা ঠিক করেছেন, রাহুল যদি একান্তই সভাপতি পদে থাকতে না চান, তা হলে আপাতত এই দায়িত্ব সোনিয়াকে নিতে হবে।

এর কারণ হিসেবে কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, “প্রথমত এই মুহূর্তে রাহুলের কোনও বিকল্প নেই। আর রাহুল রাজি না হলে একমাত্র সোনিয়া গান্ধীই পারেন গোটা দলকে এক সঙ্গে রাখতে। অন্য যে কোনও নেতাকে দায়িত্ব দিলে দলের মধ্যে অরাজকতা তৈরি হতে পারে। নতুন সভাপতির কথা অন্য কোনও নেতা না-ও শুনতে পারেন।’’

ফলে রাহুল যতদিন সভাপতি পদে না ফেরেন, ততদিন সোনিয়াকে সামনে রেখেই কাজ চালাতে চান কংগ্রেস নেতারা। কিন্তু সমস্যা হল, প্রতিদিনের খুঁটিনাটি নানা কাজ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্যই রাহুলের হাতে দলের ভার তুলে দিয়েছিলেন সোনিয়া। শারীরিক কারণেও তিনি আগের মতো সক্রিয় হতে পারবেন না।

এ সব ভেবে সোনিয়াকে মাথায় রেখেই একজন বা দু’জন কার্যনির্বাহী সভাপতি করার কথা ভাবছেন কংগ্রেস নেতারা। দলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অতীতের ধাঁচে একটি সংসদীয় বোর্ডও গঠন করা হতে পারে। কিন্তু সোনিয়া বড় কোনও দলের থেকে ছোট কোর-গ্রুপেই বেশি স্বচ্ছন্দ।

এদিকে তিন দিনের কেরালা সফর সেরে রাহুল গান্ধী দিল্লি ফিরে বিদেশ সফরে গেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই তিনি ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছে রাহুল সংশ্লিষ্ট সূত্র। সংসদের অধিবেশন শুরু হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। তার আগেই এই বিষয়টি পাকা করে ফেলতে চাইছেন কংগ্রেস নেতারা। কিন্তু তাঁদের আশঙ্কা, সোনিয়ার হাতে ভার তুলে দেওয়ার প্রস্তাবেও রাজি না হতে পারেন রাহুল।

সে ক্ষেত্রে গান্ধী পরিবারের বাইরে কাকে সভাপতি করা যেতে পারে, সেটি বাছাই করাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ কংগ্রেস নেতাদের কাছে। সে ক্ষেত্রে গোলাম নবী আজাদ, মল্লিকার্জুন খড়্গে কিংবা পৃথ্বীরাজ চহ্বাণ প্রমুখের মধ্যে যে কারও উপর সংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পড়তে পারে। তবে গান্ধী পরিবারকে বাইরে রেখে কোনও রকম বিকল্প খোঁজার পক্ষপাতী নন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।

Print Friendly, PDF & Email