বাঙালিনিউজ
মইনুল হাসান সাদিক ও সাদেকুল ইসলাম গোলাপ। ফাইল ছবি

বাঙালিনিউজ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

আগামী ২৭ জানুয়ারি গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুনঃতফসিল অনুযায়ী অনুষ্ঠেয় এই আসনের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপির প্রার্থী মইনুল হাসান সাদিক এবং বাম গণতান্ত্রিক জোট সমর্থিত বাসদের প্রার্থী সাদেকুল ইসলাম গোলাপ।

‘দলীয় সিন্ধান্তে’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবদুল মতিনের কাছে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন বলে জানান।

ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত বিএনপির প্রার্থী মইনুল হাসান সাদিক ও বাম গণতান্ত্রিক জোট সমর্থিত বাসদের প্রার্থী সাদেকুল ইসলাম গোলাপ আজ পৃথক সংবাদ সম্মেললনে এই ঘোষণা দেন।

মইনুল হাসান বেলা ৩টার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন এ দেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রশাসনের সহায়তায় আওয়ামী লীগের ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ ভোট ডাকাতির মহোৎসব হয়েছে।

তিনি বলেন, এ কারণে এই আসনের নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। তাই আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলাম। একই সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে নিদর্লীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। জেলা বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গত ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ডা. মইনুল হাসান সাদিক।

বাসদ প্রার্থী সাদেকুল ইসলামও নির্বাচন বর্জনের পেছনে একই কারণ দেখিয়েছেন। তিনি জেলা বাসদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর যে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে, তাতে এই সরকারের অধীনে আর কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার কোনো রকম সম্ভাবনা নেই। সে কারণে আমি এই নির্বাচন থেকে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

গত ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, এই আসনের ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রার্থী টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর মৃত্যু হয়। ফলে এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন পুনঃতফসিল ঘোষণা করে।

সে অনুযায়ী আগামী ২৭ জানুয়ারি এ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২ জানুয়ারি। আর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন ছিল ৩ জানুয়ারি। প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল আজ ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার।

এ আসনে বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। বিএনপির প্রার্থী ডা. সাদিক এবং বাসদ প্রার্থী সাদেকুল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় এখন প্রার্থী থাকলেন ৬ জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ডা. ইউনুস আলী সরকার, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী, জাসদের এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি, ইসলামী আন্দোলনের হানিফ দেওয়ান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মিজানুর রহমান তিতু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আর কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের খবর পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email