বাঙালিনিউজ
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবাঞ্ছিত কুকুর-বিড়ালের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে নিচ তলার ওয়ার্ডগুলো। তবে প্রত্যেক ওয়ার্ডে সরকারি কর্মচারীর পাশাপাশি একাধিক ফ্রি সার্ভিস কর্মচারী থাকলেও কুকুর তাড়ানোর কোনো লোকের দেখা মেলেনি। ফলে এসব কুকুর-বিড়ালের মাধ্যমে রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে বলে মনে করেন সাধারণ রোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুমেকের গাইনি ওয়ার্ডে রোগীদের খাবার দেয়ার সময় খাবারের গাড়ির সঙ্গে একটি নোংরা কুকুরও ঘুরছে। এ সময় সেটির শরীর থেকে প্রচণ্ড গন্ধ ছড়ালেও হাসপাতালের কাউকে তাড়াতে দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে আশেপাশের রোগী ও তাদের স্বজনরাই কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন।

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, খুমেক হাসপাতালের বর্ধিত ভবনের পেছনের গেট সব সময়ই খোলা থাকে। ফলে ওই ভবনের পেছনের ডাষ্টবিন ও ময়লাযুক্ত স্থান থেকে অনায়াসে কুকুর-বিড়াল হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করছে। একাধিক বিড়াল দেখা গেছে মেডিসিন, গাইনি ও অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডে। রোগীর স্বজনরা বিড়ালকে কিছু না বললেও কোনো ওয়ার্ডে কুকুর ঢুকলে তাড়িয়ে দেন। সেগুলো তখন পাশের ওয়ার্ডে চলে যায়।

এসব কুকুরের মুখের লালা দিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়াচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন রোগী বা তার স্বজনরা। তাদের আশঙ্কা এসব কুকুর-বিড়ালের কারণে জলাতঙ্কসহ নানা রোগ হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী রেজিস্ট্রার বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর কুকুর-বিড়াল থাকলে চিকিৎসা দিয়ে লাভ কি? হাসপাতালের সর্বত্র ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য রোগজীবানু এসব কুকুর-বিড়ালের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব দেখতে পরিচালক স্যার যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তারা ঠিকমত কাজ করে না। ওয়ার্ড বয়, ফ্রি সার্ভিস সকলে যার যার ধান্দায় ঘোরে। তারা এসব বিষয় দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়। এতে হাসপাতাল পরিচালক ও অন্যান্য চিকিৎসকদের দুর্নাম হয়।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মোর্শেদ বলেন, হাসপাতালের ভেতরে কুকুর-বিড়ালের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি কোনো স্থানে এগুলোকে দেখা যায় সঙ্গে সঙ্গে তাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email