বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
খুলনা প্রতিনিধি

হাজতে পুলিশি হেফাজতে নারী নির্যাতন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে খুলনা জিআরপি (রেলওয়ে) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল ০৯ আগস্ট শুক্রবার আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদি হয়ে আজ ১০ আগস্ট শনিবার সকালে জিআরপি থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। তার দায়ের করা মামলা নং ০৩।

পাকশি থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ফিরোজ আহমেদ এ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে এবং জেলগেট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিম নিজেই এ মামলার বাদী।

রেলওয়ে পুলিশের কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ মিডিয়াকে জানান, মামলায় ওসি উছমান গণি, ঘটনার রাতের ডিউটি অফিসার ও আরও তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করে ওই নারী মামলা করেছেন। তিনি বলেন, খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে ‘হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর ১৫ ধারা অনুসারে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা নং ৩, তারিখ ০৯.০৮.১৯. খুলনা জিআরপি থানা। এ মামলার তদন্তকারী অফিসার পাকশি এসপি অফিস থেকে নির্ধারণ করা হবে।

ওই নারী আদালতে অভিযোগ করেন, গত ০২ আগস্ট শুক্রবার যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করেন। পরে গভীর রাতে জিআরপি থানা হাজতে ওসি উছমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন ওই গৃহবধূকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়।

এরপর গত ০৪ আগস্ট রোববার আদালতে জামিন শুনানিকালে জিআরপি থানায় ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ওই গৃহবধূ। এরপর আদালতের নির্দেশে পরদিন ০৫ আগস্ট সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও তৈরি হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে, জিআরপি (রেলওয়ে) থানা হাজতে নারী নির্যাতনের এই অভিযোগের এ বিষয়টি তদন্তের জন্য পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদকে।

Print Friendly, PDF & Email